১০০ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত ১০ শতাংশে

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ০২:২০ এএম

দেশে নতুন করে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এবার এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়াল। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২ হাজার ১৮৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ১০০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ গত বছর ৮ ডিসেম্বর ২৪ ঘণ্টায় এরচেয়ে বেশি ২ হাজার ২০২ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গতকাল প্রায় তিন মাস পর রোগী শনাক্ত হার আবার ১০ শতাংশের ওপরে উঠল। পাশাপাশি এদিন নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৯২৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের এই হার গত ৯৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর এরচেয়ে বেশি ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

গত বছরের মার্চে দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৩৭৬তম দিন। সাড়ে ১২ মাসের এই করোনাকালে সংক্রমণ সর্বোচ্চ মাত্রায় ওঠে গত জুন, জুলাই ও আগস্টে। ওই সময় এক দিন রোগী শনাক্ত সর্বোচ্চ চার হাজারের ওপরে ওঠে। সেপ্টেম্বর থেকে সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সংক্রমণের নি¤œগতি অব্যাহত ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩ শতাংশের নিচে এবং শনাক্ত রোগী ছিল পাঁচশর কম। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম দিন থেকেই সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে। নতুন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি শনাক্ত হারও এ ক’দিনে ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। সংক্রমণ বাড়ায় নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও বেড়েছে। গত বুধবার ২৪ ঘণ্টায় এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ২৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষার রেকর্ড হয়। অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত বাড়তে বাড়তে গতকাল দুই হাজার ছাড়িয়েছে এবং শনাক্ত হার ১০ শতাংশের ওপরে উঠেছে।

এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৬ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছে। এদিন মৃতদের মধ্যে ১৩ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ১২ জন ষাটোর্ধ্ব।

অধিদপ্তরের গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২১৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৭২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৮টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ২১ হাজার ২১২ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ২০ হাজার ৯২৫ জনের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৯৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে সর্বমোট ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৯ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১২ দশমিক ৯৯ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৮ হাজার ৬২৪ জন এবং শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৩৪ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫২৩ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৩ এবং সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১২ ও নারী ৪ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫২১ পুরুষ ও ২ হাজার ১০৩ নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬১ ও নারী ২৪ দশমিক ৩৯ ভাগ। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩ জন ঢাকা বিভাগের এবং বাকি তিনজন চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮৪৫ জন মারা যায় ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৮৭, খুলনায় ৫৬৮, রাজশাহীতে ৪৮৫, রংপুরে ৩৬৬, সিলেটে ৩১৩, বরিশালে ২৬৩ এবং ময়মনসিংহে সর্বনি¤œ ১৯৭ রোগী মারা গেছে। বয়স অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১২, ৫১-৬০ বছরের ১ এবং ৪১-৫০ বছরের ছিল ৩ জন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১০ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ৫৭০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ৯ হাজার ৮৯৯ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩২ হাজার ৮৪০ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১০ হাজার ৪০৮টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৪০৭টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৫৮টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ২৮৬টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত