শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে ঢাকায় আসছেন আজ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ০২:২৮ এএম

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুদিনের সফরে আজ শুক্রবার ঢাকায় আসছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। সকাল ১০টায় তার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন, বেলা ৩টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন হোটেল সোনারগাঁওয়ের প্রেসিডেন্সিয়াল সুইটে রাজাপাকসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গ্র্যান্ড বলরুমে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।

আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাদুঘর পরিদর্শন করবেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। এরপর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। পরে দুই সরকার প্রধানের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এছাড়া বিকেল ৫টায় বঙ্গভবনের ক্রেডিশিয়াল হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাজাপাকসে।

মুজিববর্ষ ও সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা : আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, উন্নতি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে কম্বোডিয়া একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুনসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া ভিডিও ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিনের অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিনে ‘মহাকালের তর্জনী’ প্রতিপাদ্য নিয়ে একটি রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সময়ে এ বার্তাটি প্রচার করা হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ^ মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। বেঁচে থাকলে এবারের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বয়স হতো ১০১ বছর। আর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ দুই বিশেষ উপলক্ষ ঘিরে গত বুধবার শুরু হয়েছে জাতীয় পর্যায়ে দশ দিনের অনুষ্ঠানমালা, যা শেষ হবে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দিনে।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালায় পাঠানো ভিডিও ভাষণের শুরুতেই চলমান মহামারীর কারণে এ ধরনের অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের জনগণের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব অনুসরণ করে গত দশকগুলোতে সব অর্জনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে পেরেছে। এই অর্জনের কারণে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীর দেশের কাতারে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

ভিডিও ভাষণে এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আমি আমার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতে চাই। শান্তি, উন্নতি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দুই পক্ষই লাভবান হওয়ার মতো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই; বিশেষ করে বর্তমানে চলমান কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আলজেরিয়ায় ১৯৭৩ সালে জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনের সময় কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুক ও বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশ ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করে। এর মাধ্যমে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় যায়।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিন দশকে দুই দেশই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগী হতে পেরেছে। এর মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে অনেক সহযোগিতা বিনিময় হয়েছে। ২০১৪ সালের জুনে বাংলাদেশে আমার ঐতিহাসিক সফর এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কম্বোডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতাসংক্রান্ত বিভিন্ন সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করেছে। দুই দেশের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মানের স্মারক হিসেবে দুই জাতির পিতার নামে নমপেন ও ঢাকায় পৃথক সড়কের নামকরণের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

আজ সব মসজিদে দোয়া : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের সব মসজিদে আজ জুমার নামাজের পর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আজ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত