দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

হবিগঞ্জ বিসিকের সেই কলাগাছ কেটে কারখানার কাজ শুরু

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ০১:৩২ এএম

জমি বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার পর অবশেষে হবিগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর পাঁচটি খালি প্লটের মধ্যে তিনটিতে কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সাংসদের পরিবারসহ কিছু প্রভাবশালীর প্লট বরাদ্দ নিয়ে খালি ফেলে রাখা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গত ৯ জানুয়ারি দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত হয়। ‘কারখানার বদলে কলাগাছ’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি হাজারো পাঠক তাদের ফেইসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। পরদিন এ নিয়ে সম্পাদকীয়ও প্রকাশ হয় দেশ রূপান্তরে। এরপর টনক নড়ে বিসিক কর্র্তৃপক্ষ ও প্লট বরাদ্দ কমিটির।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছর পর গত ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে প্লট বরাদ্দ কমিটির (এলইসি) সভা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান ভূমি বরাদ্দ নিয়ে কারখানা দৃশ্যমান করেনি তাদের ১ মার্চের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরুর সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। ওই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের নোটিস দেওয়া হয়।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবু জহিরের ছেলে ইফাত জামিলের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্রায় ৩১ শতক জমিতে কলাগাছ কেটে নির্মাণসামগ্রী এনে রাখা হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে পিলার তৈরির জন্য গর্তও করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাজমুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, মর্তুজা চৌধুরীর সান কেমিক্যাল, যুবলীগ নেতা জাকারিয়া চৌধুরীর হবিগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও শাহজালাল প্লাস্টিক কোম্পানি কারখানা নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

 তিনি আরও জানান, ভূমি বরাদ্দ বাতিল আদেশ নিয়ে তিনটি মামলা ছিল। এর মধ্যে হাসান কটন রিফাইনারির মালিক আবদুল কাইয়ুম তার করা মামলা তুলে নিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওয়ার পর তিনি কাজ শুরু করবেন। জসিম অটোবুট নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভূমি বরাদ্দ বাতিলের নোটিস দেওয়া হয়। তিনি এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় তা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে ভূমি বরাদ্দ কমিটির (এলইসি) আরেকটি সভা করা হবে বলেও জানান নাজমুল হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত