মসলিনের বুননশৈলী কেন জানা নেই কারও

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২১, ১২:১৮ এএম

বাংলার অনন্য এক ঐতিহ্যের নাম মসলিন। হাজার বছর পুরনো এর ইতিহাস। মুঘল সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে পুরো ইউরোপে এর ব্যবহার ছিল বিস্তৃত। একসময় মসলিন কারিগররা কম পারিশ্রমিক পাওয়া শুরু করলে জর্জরিত হয়ে পড়েন ঋণে। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী মসলিন। বিবিসি অবলম্বনে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

ফ্যাশনে মসলিন

মসলিনের ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। বাংলা ছাড়াও ইউরোপের ফ্যাশনে মসলিনের ব্যবহার ছিল। মেঘনা নদীর তীরে জন্মানো এক বিশেষ ধরনের গাছ থেকে পাওয়া দুর্লভ এক তুলা দিয়ে ১৬টি ধাপ সম্পন্ন করে বানানো হতো মসলিন। সেই যুগের অন্যতম সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো মসলিনকে। বলা হয়, মসলিনের পৃষ্ঠপোষকতা হাজার বছর ধরে বিস্তৃত। গ্রিসের প্রাচীন দেবদেবীর পোশাক থেকে শুরু করে দূর দেশ থেকে আসা সম্রাট, মুঘল রাজা ও তার প্রজন্মের সবার পরিধেয় ছিল মসলিনের তৈরি।

মসলিনের অনেক ধরন ছিল, সেই সঙ্গে ছিল অনেক নামও। ‘বাফত-হাওয়া’ অথবা ‘বোনা বাতাস’ নামে সবচেয়ে সুন্দর নামটি ছিল একজন কবির দেওয়া। এমন নাম দেওয়া হয়েছিল কারণ সেই মসলিন ছিল খুবই হালকা এবং বাতাসের মতো আলতো। নিজ চোখে মসলিন দেখার জন্য অনেক পর্যটক আসতেন। সে সময় একজন পর্যটক মসলিন হাতে নিয়ে বলেছিলেন, ৩০০ ফুট লম্বা একটি মসলিনের কাপড় অনায়াসে একটি আংটির ভেতর দিয়ে ঢোকানো ও বের করা যেত। অন্য একজন বলেছিলেন, ৬০ ফুট একটি কাপড় পকেট বক্সে অনায়াসে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যেত। ঢাকাই মসলিন সত্যিই এত স্বচ্ছ ছিল।

ঐতিহ্যগতভাবে এই ফেব্রিক ব্যবহার করা হতো শাড়ি ও জামা বানানোর কাজে। পুরুষদের পোশাকেও এর ব্যবহার দেখা যেত। যুক্তরাজ্যে মসলিনের পোশাক মানেই ছিল আভিজাত্যের প্রকাশ। মসলিনের পোশাক এতটাই সূক্ষ্ম বুননে বানানো ছিল যে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ স্পষ্টভাবে বোঝা যেত। নানা নেতিবাচক মন্তব্যের পরও ঢাকাই মসলিন সফল ছিল। কারণ সে যুগে সবচেয়ে দামি ফেব্রিক ছিল এটাই। সঙ্গে ছিল মসলিনের অসংখ্য ভক্ত। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ফ্রেঞ্চ কুইন ম্যারি অ্যান্তোনি, ফ্রেঞ্চ-সম্রাজ্ঞী জোসেফাইন বেনাপোর্ট ও জেন অস্টিন। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, যত দ্রুত ইউরোপ জুড়ে মসলিন জায়গা দখল করে নিয়েছিল, ঠিক তত দ্রুতই যেন এটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

২০ শতকের শুরুর দিকে, বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে ঢাকাই মসলিন অদৃশ্য হয়ে যায়। কোনো একসময় মসলিন ছিল সেই স্মৃতি এখন শুধু সংরক্ষিত আছে জাদুঘরে আর কিছু ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায়। কীভাবে এগুলো বানানো হতো, সেই কৌশলও এখন কেউ জানে না। মসলিন বানাতে ‘গসিপাম আরবোরিয়াম ভার’ (স্থানীয় নাম ফুটি কার্পাস) নামে যে তুলা ব্যবহার করা হতো, সেটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

সুতা বোনা

মেঘনা নদীর তীরে জন্মানো গাছ থেকে যে তুলা পাওয়া যেত, সে থেকেই বানানো হতো মসলিন। প্রতি বসন্তে ম্যাপল লিফের মত পাতাওয়ালা গাছটি বড় হতো। বছরে দুবার সে গাছে হলুদ ফুল ফুটত, সেখান থেকেই পাওয়া যেত সুতি তন্তু। এগুলো কোনো সাধারণ তন্তু ছিল না।

বিশ্বে ৯০ শতাংশ তন্তু সরবরাহ হয় আমেরিকা থেকে। গসিপাম হিরসাটাম নামে সূক্ষ্ম এক ধরনের তন্তু বানায় তারা। তুলনার দিক থেকে একে ফুটি কার্পাসের চাচাতো ভাই বলা যায়। কারণ ফুটি কার্পাস থেকে যে তুলা হতো সেগুলো ছিল খাটো ধরনের আর সহজে সেগুলো দিয়ে বিভ্রান্তও করা যেত। গুল্ম বা ঝোপঝাড়ের সঙ্গে যে ছোট তন্তুগুলো লেগে থাকত, সেগুলো দিয়ে শিল্প-কারখানার মেশিনের সাহায্যে কম দামি সুতা বানানো হতো। এই সুতাগুলো দিয়ে অনেক কাজই করা যেত। স্থানীয়রা বহু বছর ধরে এসব সুতা দিয়ে কাজ করেছে।

মসলিন বানানোর জন্য ১৬টি আলাদা ধাপ ছিল। প্রতিটি ধাপের কাজ করতেন আলাদা বিশেষজ্ঞ। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাদের আনা হতো। তখন অবশ্য বাংলা আলাদা ছিল না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অনেক কর্মীও ছিলেন। পুরো কাজে শুধু পুরুষ নন, নারী, শিশু, বৃদ্ধ সবাই কাজ করতেন।

প্রথমে, সুতার বলগুলোকে স্থানীয় লেক অথবা নদীর বোয়াল মাছের চোয়াল দিয়ে পরিষ্কার করা হতো। পরের ধাপ ছিল সুতা ঘোরানো। এ কাজটি করার জন্য উচ্চমাত্রার আর্দ্রতা প্রয়োজন হতো। তাই দক্ষ নারীদের দল একদম ভোরে এবং সন্ধ্যার শেষ সময়ে নৌকায় বসে এ কাজ করত। কারণ সে সময়ই আর্দ্র আবহাওয়া পাওয়া যেত। বয়স্করা এই সুতা বুননের কাজ করতেন না। কারণ সুতাগুলো এতই সূক্ষ্ম ছিল যে তারা খালি চোখে সেগুলো দেখতে পেতেন না।

২০১২ সালে মসলিন নিয়ে লেখা একটি বইয়ের লেখক এবং নকশা ইতিহাসবিদ সোনিয়া অ্যাশমোর বলেন, ‘এই সুতোর তন্তুগুলোর মধ্যে ছোট ছোট অসংখ্য সংযুক্তি থাকত। যার সাহায্যে এগুলো একসঙ্গে জোড়া লাগানো থাকত। কাজ শেষে সুতার পৃষ্ঠে রুক্ষ এক ধরনের ভাব আসত, যা ধরলেও ভালো লাগত।’ সর্বশেষে আসত বুনন প্রক্রিয়া। এই ধাপে কাজের সময় এক মাসও লেগে যেত। বিশেষ করে যদি ক্ল্যাসিক কোনো জামদানিতে জ্যামিতি আকৃতির ফুল থাকত।

এশিয়ার গর্ব

পশ্চিমা গ্রাহকরা শুরুতে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে চাননি যে, ঢাকাই মসলিন মানুষের হাতে বানানো হয়। এমনও গুজব ছিল, মারমেইড, পরী এমনকি জিন-ভূতের তৈরি ছিল এই মসলিন। অনেকে বলতেন এগুলো বানানো হতো পানির নিচে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রাফট কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট রুবি গজনাভি বলেন, ‘সে সময়ের হালকা আর তুলতুলে মসলিনের কথা শুনলে মনে হয়, বর্তমানে আসলে সেসবের কিছুই নেই।’ সেই একই রকম বুনন-পদ্ধতি হয়তো আজও আছে, কিন্তু ফুটি কার্পাসের বদলে সাধারণ তুলো দিয়ে নিম্নমানের মসলিন বানানো হয় আজকাল। শাড়িতে কাউন্ট যত বেশি হতো, তত কাপড় নরম আর পরতে আরামের হতো। ২০১৩ সালে জামদানিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা দেয় ইউনেসকো।

মসলিন পুনরুজ্জীবিত নিয়ে অনেক দিন ধরে কাজ করছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি একটি ফটো এজেন্সিও চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বেশির ভাগ সংস্করণে কাউন্টের সংখ্যা ৪০-৮০-এর মধ্যে। অন্যদিকে ঢাকাই মসলিনের কাউন্ট ছিল ৮০০-১২০০-এর মধ্যে। সেভাবে এখন আর মসলিন তৈরি সম্ভব নয়।’

ঔপনিবেশিক বাজার

অ্যাশমোর বলেন, ‘মসলিন বাণিজ্য তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি ধ্বংস করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।’ যেহেতু ইউরোপের অভিজাত নারীরা ঢাকাই মসলিন ব্যবহার করতেন, কাজেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর কদর ছিল। প্রাচীন গ্রিক ও রোমানদের কাছে মসলিন বিপুল জনপ্রিয় ও সমাদৃত ছিল। মিসরীয় একজন সওদাগর তার লেখা ‘দ্য পেরিপ্লাস অব দি এরিথ্রাইয়ান সি’ বইতে ভারতের মসলিন সম্পর্কে লিখেছিলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মসলিন প্রশংসিত হতে থাকে বিভিন্নজনের কাছে। ১৪ শতকে বারবার-মরক্কো অনুসন্ধানকারী ইবনে বতুতা, ১৫ শতকে চীনা ভ্রমণকারী মা হুয়ানসহ অনেকেই মসলিন নিয়ে প্রশংসা করেছেন।

কোনো ধরনের তর্কসাপেক্ষে মুঘল সাম্রাজ্য এই ফেব্রিকের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় ছিল। ১৫২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ান সাম্রাজ্য বর্তমান উজবেকিস্তানের একজন যোদ্ধার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮ শতকে ভারত উপমহাদেশ জুড়ে শাসন করে। এই পুরো সময়ে, পার্সিয়া (বর্তমান ইরান), ইরাক, তুর্কি ও মধ্যপ্রাচ্যে সওদাগরদের মধ্যে মসলিন কেনাবেচা হতো।

মুঘল সম্রাট ও তার স্ত্রীরাই এই পোশাক বেশি পরতেন। মসলিন ছাড়া তেমন কোনো পোশাক তাদের কখনো পরতে দেখা যেত না। সম্রাটরা দূর-দূরান্ত থেকে সেরা বুননকারীদের খুঁজে বের করে তাদের থেকে মসলিন নিয়ে আসতেন, তাদের সরাসরি চাকরি দিতেন, অন্য কাউকে তারা ভালো কাপড় দিলে তাদের নিষিদ্ধ করা হতো। মসলিনের স্বচ্ছতা নিয়ে কথিত আছে, সম্রাট আওরঙ্গজেব একবার তার মেয়েকে বলেছিলেন সে কেন জনসম্মুখে নগ্ন অবস্থায় এসেছে। অথচ বিস্মিত মেয়ের জবাব ছিল, তিনি সাত স্তরের পোশাক পরে তবেই বাইরে এসেছেন।

সবকিছু ভালোই চলছিল। সে সময় ব্রিটিশদের আবির্ভাব হলো। ১৭৯৩ সালে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘল সাম্রাজ্য জয় করে এবং এক শতাব্দীরও কম সময়ের মধ্যে পুরো অঞ্চল নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। ঢাকাই মসলিন সর্বপ্রথম ১৮৫১ সালে যুক্তরাজ্যে প্রদর্শিত হয়। এই প্রদর্শনীর আইডিয়া ছিল কুইন ভিক্টোরিয়ার স্বামী প্রিন্স অ্যালবার্টের। সেই প্রদর্শনীতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে এক লাখেরও বেশি জিনিস আনা হয়েছিল। প্রদর্শনী হয়েছিল ১৮৫২ ফুট লম্বা ও ১২৮ ফুট উচ্চতার ক্রিস্টাল হলের গ্লাস হলে। সে সময় এক গজ ঢাকাই মসলিনের দাম ছিল ৫০-৪০০ পাউন্ড। বর্তমানের হিসাবে ৭ হাজার থেকে ৫৬ হাজার পাউন্ড। সবচেয়ে ভালো সিল্কের দামও তখন ২৬ গুণ কম ছিল। বলাবাহুল্য মসলিনের বাজার দখল ভালোই ছিল।

হারিয়ে যাওয়া

ভিক্টোরিয়ান লন্ডনবাসীরা যখন এই ফেব্রিক নিয়ে মাতামাতি করছিল, ঠিক তখন এটির প্রস্তুতকারীরা ঋণের দায়ে অর্থনৈতিক দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছিলেন। ‘গুডস ফ্রম দি ইস্ট, ১৬০০-১৮৮০’ বইয়ে লেখা আছে, ১৮ শতকের শেষের দিকে কীভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ঢাকাই মসলিন নিয়ে কাজ শুরু করে। প্রথমে কোম্পানি স্থানীয় গ্রাহকদের জায়গায় গ্রাহক হিসেবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে সামনে আনে। পুরো প্রোডাকশনে অদ্ভুত সব নিয়ম যোগ করে পুরো প্রক্রিয়া নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। কম দামে বেশি মসলিন বুনতে বাধ্য করা হয় শ্রমিকদের। ‘ফুটি কার্পাস থেকে কাপড় বানাতে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন। এটি বানানোর পদ্ধতিও খুব মূল্যবান। দিন শেষে এক কেজি তন্তু থেকে মাত্র আট গ্রাম মসলিন পাওয়া যেত’ বলছিলেন সাইফুল ইসলাম।

‘বুননকারীরা যখন চাহিদা ধরে রাখতেন, তখন তারা ঋণে পড়ে যেতেন। যে পোশাক বানাতে তাদের বছরখানেক লেগে যেত, তার মাত্র একভাগের মূল্য তারা পেতেন। আবার সেই পোশাক যদি তাদের মনমতো না হতো, তবে পুরো অর্থই তাদের ফেরত দিতে হতো। তারা আসলে কখনোই ঋণের দায় থেকে বের হতে পারেননি’ বলছিলেন অ্যাশমোর।

চূড়ান্ত ধাক্কাটি আসে প্রতিযোগিতার কারণে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো ঔপনিবেশিক কোম্পানিগুলো বছরের পর বছর ধরে যে শিল্পগুলোয় নির্ভর ছিল তাদের নথিভুক্ত করতে ব্যস্ত ছিল এবং মসলিনও এর বাইরে ছিল না। পোশাক তৈরির প্রতিটি বিষয় রেকর্ড করা হয়েছিল।

মসলিন নিয়ে ইউরোপিয়ানদের তৃষ্ণা যত বাড়তে থাকে, তত এর মূল্য কমে যায়। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ল্যাংকশায়ারে টেক্সটাইল ব্যবসায়ী স্যামুয়েল ওল্ডনো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অভ্যন্তর থেকে তথ্য নিয়ে বেশি পরিমাণে সুতা তৈরির স্পাইনিং হুইল নির্মাণ করেন এবং লন্ডনে প্রচুরসংখ্যক কাপড় সরবরাহ করতে থাকেন। ১৭৮৪ সাল নাগাদ তার সঙ্গে এক হাজার বুননকারী কাজ করা শুরু করেন। তবে ব্রিটিশদের বানানো সেই মসলিন ঢাকাই মসলিনের কাছাকাছিও আসতে পারেনি। এগুলো বানানোই হতো বিশেষ ধরনের তুলা থেকে। বোনা হতো নির্দিষ্ট কাউন্ট মেনে। কয়েক দশকের অপব্যবহারের কারণে ধীরে ধীরে এই খাত একদম ধ্বংসের দিকে চলে গেছে। এ ছাড়া যুদ্ধ, দরিদ্রতা, ভূমিকম্প সবকিছু মিলে কাপড়ের মানও দিন দিন কমতে থাকে। যার কারণে কর্মীরা কৃষিপেশায় নিযুক্ত হন। যেটুকুও বাকি ছিল তার পুরোটাও শেষ হয়ে যায় এসব কারণে।

বাংলার মসলিন নিয়ে ‘দ্য কোম্পানি ওয়েভারস অব বেঙ্গল’ বইয়ের লেখক এবং মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসাইন বলেন, সবারই মনে রাখা দরকার যে, এটি আসলে তাদের পারিবারিক পেশা ছিল। আমরা প্রায়ই বুননকারীদের নিয়ে কথা বলি, গল্প করি তারা কতটা চমৎকার ছিলেন। কিন্তু সেই কাজের পেছনে যে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সেটি নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। এর মানে হচ্ছে, এই পুরো খাতটির সঙ্গে অসংখ্য মানুষ জড়িত।’

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কীভাবে ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো সেই জ্ঞান বেশির ভাগই হারিয়ে ফেলেছেন। রেশমি সুতোকে ঘোরানোর মতো কেউ নেই। যে ফুটি কার্পাস নিয়ন্ত্রণ করা বরাবর শক্ত ছিল, সেটি মেঘনা নদীর তীর থেকে অন্য কোথাও জন্মানো সম্ভব হয়নি। কিংবদন্তি কোনো তাঁতিও আজ আর বেঁচে নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত