৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা রোগী, নমুনা পরীক্ষার রেকর্ড

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২১, ০১:৩৫ এএম

দেশে উদ্বেগজনক হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। মার্চের শুরু থেকেই বাড়তে থাকা সংক্রমণ এখনো ঊর্ধ্বমুখী। শনাক্তের হার ও রোগীর সংখ্যায় প্রতিদিনই ভাঙছে আগের রেকর্ড। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত আরও বেড়েছে। প্রায় ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর আগের দিন গত সোমবার প্রায় সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এমনকি গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার আরও বেড়েছে। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর শনাক্তের হার ১৩ শতাংশের ওপরে ওঠে।

বাড়ছে রোগী : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল গত ২৬৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময় ৩ হাজার ৫৫৪ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত বছর ২ জুলাই সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এ মাসের প্রথম দিন থেকেই দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারিতে গড়ে দৈনিক  ৩০০-৪০০ জন করে রোগী শনাক্ত হলেও এ মাসের প্রথম দিনই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল পৌনে ছয়শোজন। এরপর ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বাড়ছে শনাক্ত হার : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ১০৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর গতকালের চেয়ে বেশি ১৫ দশমিক ৩০ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক গড়ে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩ শতাংশেরও কম। অথচ এ মাসের শুরুতে থেকেই বাড়তে বাড়তে সে হার সর্বশেষ ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেল।

মৃত্যু ও পরীক্ষাও বেড়েছে : শনাক্তের পাশাপাশি করোনায় মৃত্যুও বাড়ছে। গত সোমবার গত প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অবশ্য গত ২৪ ঘণ্টায় সে সংখ্যা কমে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। মোট মৃত্যুর ১৪ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ১৬ জনের বয়স ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১২ ও নারী ৬ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৬০৭ পুরুষ ও ২ হাজার ১৩১ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬১ ও নারী ২৪ দশমিক ৩৯ ভাগ। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ জন ঢাকা বিভাগের। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে তিন এবং রংপুরে একজন মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯২৯ জন মারা গেল ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬০৩, খুলনায় ৫৭০, রাজশাহীতে ৪৮৮, রংপুরে ৩৬৯, সিলেটে ৩১৫, বরিশালে ২৬৫ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৯৯ রোগী মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১০, ৫১-৬০ বছরের ৬ এবং ৪১-৫০ বছরের ছিল ২ জন। এদিন ১৭ জন হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে মারা গেছেন।

অন্যদিকে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষাও বেড়েছে। গত সোমবার রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার ১১১টি নমুনা পরীক্ষার পর গতকাল তার চেয়েও বেশি, অর্থাৎ দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৩৮১তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২১৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৭২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৮টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে এ পর্যন্ত ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৪১ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৮ হাজার ৭৩৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৩৫ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৯৯৪ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫১ এবং সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৮ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ১ হাজার ৫০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ২২৬ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৩ হাজার ৬৯২ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১০ হাজার ৫০০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ২ হাজার ৯৫৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৪৯টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিলেন ৩০৬টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত