ঢাকা মহানগরীতে স্বল্প আয়ের মানুষসহ বস্তিবাসীর কাছে পানি সরবরাহের প্রক্রিয়া সহজ করতে ৩ হাজার ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা ওয়াসা। পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও এ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৪২ শতাংশ। ইতিমধ্যে প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই প্রকল্পের বিভিন্ন খাতের বাড়তি ব্যয় হবে জানিয়ে আরও প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দের আবদার করেছে সংস্থাটি। প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে বাড়তি ৩৩০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, পরামর্শক ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক ব্যয় খাতে আরও অর্থ চাওয়া হয়েছে। এর আগে একবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, এবার আরও দুই বছর বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প গ্রহণের সময় বলা হয়েছিল, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে স্বল্প আয়ের মানুষসহ বস্তিবাসীর কাছে পানি সরবরাহের প্রক্রিয়া সহজ হবে। অবৈধভাবে নেওয়া পানির সংযোগ কমে আসবে। কিন্তু নানা অজুহাতে প্রকল্পের গতি আসেনি। ২০২০ সাল নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের জানুুয়ারি নাগাদ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৪২ শতাংশ। অর্থের হিসাবে ব্যয় হয়েছে ৬৬৫ কোটি টাকা। এর আগে করোনার অজুহাতে একবার মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছিল। এবার নতুন প্রস্তাবে বাড়তি ৫৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোসহ ২০২৩ সাল নাগাদ মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে ওয়াসা।
চলমান এই প্রকল্পটির বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০১৯ সালের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি নেই। কাজের অগ্রগতি না থাকলেও বিল পরিশোধ করা হচ্ছে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারদের।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. মামুন-আল-রশীদ বলেন, প্রকল্পের কাজ নানা কারণে ত্বরান্বিত হয় না। এই প্রকল্পের অগ্রগতি কেন নেই তা খুঁজে দেখা হবে। এছাড়া যে বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকায় ১ হাজার ৬৫৯ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন স্থাপন ও সংস্কার করা হবে। অনুমোদনকালে মোট ব্যয়ের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এডিবির কাছ থেকে ২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ ও বাকি ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল।
প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাস্তা খননের চার্জ বেড়েছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রকল্প অনুমোদন হয়। সেখানে রাস্তা খনন বাবদ পৃথক কোনো চার্জ রাখা হয়নি। এজন্য রাস্তা খনন নীতিমালা অনুসারে ব্যয় নির্বাহে ৩৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া ইকুইপমেন্ট সংগ্রহে অতিরিক্ত ৮০ কোটি টাকা, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পানি সরবরাহে পরামর্শক নিয়োগ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় খাতে খরচ বৃদ্ধি, সিভিলের কাজ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কাজ বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন।
