মুজিববর্ষ ও সুবর্ণজয়ন্তী

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা বিশ্বনেতাদের

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ০৬:৫১ এএম

বাংলাদেশ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনসহ বিশ্বনেতারা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার পাঠানো ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ১০ দিনের অনুষ্ঠানমালার শেষ দিনে গতকাল জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে এসব বার্তা প্রচার করা হয়।

পুতিন তার ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একজন অসাধারণ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সময়ে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীও পালন করছে। আমি নিশ্চিত যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের গঠনমূলক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’ 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার ভিডিও বার্তায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ সময়ে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে তা অসাধারণ। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল দেশ। আমরা বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বপ্নের সঙ্গে থাকতে চাই।’

বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে (যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) এসেছিলেন; যা আমাদের দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা ছিল। গত ৫০ বছরে এ বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ছয় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি রয়েছে। তারা যুক্তরাজ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে পাঠানো ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোয় ধন্যবাদ জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এ জন্য আমার পক্ষে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে যদি পরিস্থিতি ভালো হয়, বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা আমার আছে।’ তিনি  আরও বলেন, ‘দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্বমূলক অনুভূতি আমাদের সম্পর্ককে আরও উন্নত করার জন্য ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ় করবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে এরদোয়ান বলেন, ‘আপনার পিতা,  বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জন্য সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমাদের সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও গভীর হবে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন তার বার্তায় বলেছেন, তার দেশ বৈশ্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা স্বীকার করে। তিনি বলেন, ‘একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত অঞ্চল এবং একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে একসঙ্গে এগিয়ে চলায় আমরা বৈশ্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অবদান স্বীকার করি।’ বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই স্বাধীনতার জন্য সাহসী সংগ্রাম করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে শুরু করে শান্তিরক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেছে এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এর ফলে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি দুই দেশের জনগণই মানবাধিকার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় অংশীদার হচ্ছে।

ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘সম্পর্কের শুরুর দিকে আমরা আমাদের জনগণের জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য যেমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলাম, তেমনি স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমাদের শিশুদের জন্য উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলতে ও তাদের আকাক্সক্ষা পূরণে পাশে থাকব।’

অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস তারা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, পঞ্চাশ বছর আগে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ উন্নয়ন ধরে রেখে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ‘গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ সামাজিক উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রস্তুতির বিষয়ে অসাধ্য সাধন করেছে। নিম্ন আয়ের দেশের তালিকা থেকেও বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চসংখ্যক সেনার অংশগ্রহণ, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে অংশীদারিত্ব এবং মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বসমাজে অবদান রেখে চলেছে। এই সব ক্ষেত্রে জাতিসংঘ বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলার কাজে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমি সবার শুভ কামনা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত