হেফাজতসহ যে কোনো সংগঠনের সংবিধান স্বীকৃত কর্মসূচির প্রতি বিএনপির সমর্থন থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে যে কোনো কর্মসূচিতে বাধা প্রদান না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। গতকাল শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
হেফাজত ইসলাম কাল রবিবার সকাল-সন্ধ্যা সারা দেশে হরতালের ডাক দিয়েছে। এ কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন থাকবে কি না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘তাদের বাইরে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আজ (শনিবার) রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আগামীকাল রবিবার (আজ) সারা দেশে একই কর্মসূচি পালন করবে। এছাড়া আগামী ২৯ মার্চ সোমবার ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে এবং ৩০ মার্চ সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।’
এর আগে বিকেল ৩টায় দলের স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভা শেষে এই সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সুবর্ণজয়ন্তীর দিন হত্যাকান্ড কলঙ্কজনক : সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে একদিকে যখন জনগণ মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করছে তখন অন্য দিকে এই অবৈধ সরকার তার পুলিশ বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে। গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের পরে একটি সংগঠনের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিনা উসকানিতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রায় ২ শতাধিক তরুণ মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছে। এর প্রতিবাদে হাটহাজারীতে শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপরে পুলিশের নৃশংস হামলা ও নির্বিচারে গুলি চালানোয় কমপক্ষে ৪ জন নিহত ও অসংখ্য আহত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন নিহত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা দিবসে ৫০ বছর পূরণের এই দিনে এই নৃশংস হত্যাকান্ড জাতির জীবনে এক জঘন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়। আমরা এই হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ গত শুক্রবারই জানিয়েছি। মিছিল, সমাবেশ, সভা অনুষ্ঠান করা আমাদের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার। এই জঘন্য হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে সরকার তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটাল।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে ধরে রাখবার জন্য হত্যা, খুন, গুম নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী দল এবং ভিন্নমতকে দমন করে চলেছে। সব রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কর্তৃত্ববাদী শাসন চিরস্থায়ী করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে প্রকারান্তরে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপরে গুলি বর্ষণ করায় কমপক্ষে ৫ জন মানুষকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই নৃশংস হত্যাকা-ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আজ (শনিবার) সারা দেশে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। এই সব মিছিলে পুলিশ আক্রমণ করেছে এবং বেশ কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হবিগঞ্জে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে গউছের ছেলে ব্যারিস্টার মঞ্জুরুল কিবরিয়া, জি কে গউছের ভাই জি কে গফ্ফার এবং ভাতিজা আদনান ফরহাদকে বিনা কারণে দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও আজ হবিগঞ্জ জেলায় বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় হবিগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল হক শরীফসহ ৮ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাছাড়াও হবিগঞ্জ জেলায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।’
তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। মিছিল থেকে গাজীপুর জেলা যুবদলের সদস্য শামীম মিসির, মহানগর যুবদলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ মোল্লা ও জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও মিছিলে পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে গাজীপুর জেলা ও মহানগরের ৯ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানিকগঞ্জে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের ছাত্রদলকর্মী রাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং ৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ফরিদপুর জেলা যুবদলের কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ ও সদস্য হেমায়েত, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং ৩০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছেন ৯ নেতাকর্মী।’
