করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মার্জিন ঋণ সংকটের কারণে তলানিতে নেমে গেছে পুঁজিবাজারের লেনদেন। গত দুই মাসের অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন শেয়ারে আটকা পড়েছেন। এসব কারণেই ক্রেতা সংকটে পড়েছে বাজার। এর প্রভাবে গত কিছুদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ। গতকাল রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ৩৮২ কোটি টাকার, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত বছর ২৬ জুলাই ডিএসইতে ৩৭১ কোটি টাকা কেনাবেচা হয়েছিল। অবশ্য গতকাল বেচাকেনা কমলেও সূচক সামান্য বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ১৪ জানুয়ারি মার্জিন ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ বেঁধে দিয়ে এসইসির জারি করা নির্দেশনার পর থেকে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে এটি কার্যকর হবে। তবে তহবিল ব্যয় বেশি থাকা মার্জিন ঋণদাতা অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণের অর্থ ফেরত নিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে করে নিয়মিতভাবে ফোর্সড সেল হচ্ছে, যা বিক্রিচাপ বাড়িয়ে তুলছে। ঋণের সর্বোচ্চ সুদহারের নির্দেশনা আসার পর গত ১৮ জানুয়ারি থেকে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। এরপর থেকেই নিয়মিত দরপতন দেখা দেয়। কমতে শুরু করে লেনদেনের পরিমাণও।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, টানা ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ডিএসইতে লেনদেন আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সুদহারের নির্দেশনার পর গত ১৮ জানুয়ারি লেনদেন নেমে যায় দেড় হাজার কোটি টাকায়। পরবর্তী সময়ে লেনদেন কমে ফেব্রুয়ারিতে তা হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে আসে। মার্জিন ঋণের সুদহার কার্যকরের মেয়াদ জুন পর্যন্ত পেছালেও লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমে গিয়ে মার্চে আরও অবনতি হয়। মার্জিন ঋণের সুদহার ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিও পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আবারও লকডাউন হতে পারে, এমন গুজবেও বিনিয়োগকারীরা সতর্কতার অংশ হিসেবে শেয়ার বিক্রি করে সাইড লাইনে ফিরে যান। এছাড়া গত দুই মাসের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ বীমাসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে আটকা পড়েন। এটিও লেনদেন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া আইপিওর মাধ্যমেও পুঁজিবাজার থেকে বড় অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যাওয়ায় তারল্য সংকট তৈরি হয়।
গতকাল লেনদেন কমলেও ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৬ পয়েন্ট বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৪টির, কমেছে ৮৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৩২টির।
