চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের দুই মামলায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ১৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত সোমবার রাতে ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল ও নগর বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করলে বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার বিকেলে মহানগর বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনসংলগ্ন সড়কে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনা ঘটে। গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ছাড়াও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে আটজন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি বিএনপির।
সংঘর্ষের পরপরই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নগর মহিলা বিএনপির সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনিসহ ১৬ নেতাকর্মীকে এবং রাতে ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল থেকে ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ডা. শাহাদাতকে পাঁচলাইশ থানায় দায়ের একটি চাঁদাবাজি মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার তার বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলাটি করেন নগর বিএনপির সাবেক সহ-মহিলাবিষয়ক সম্পাদক লুসি খান।
কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নোবেল চাকমা দেশ রূপান্তরকে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি এবং পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ অন্য মামলাটি করেছে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলা দুটিতে নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী দেশ রূপান্তরকে জানান, ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ১৭ জনকে আজ (গতকাল) আদালতে হাজির করে পুলিশ। বিচারকের আদেশের পর আদালত থেকেই তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। চকবাজার থানার একটি মামলায় ডা. শাহাদাতের জামিন ও ডিভিশনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কাল (আজ বুধবার) এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।
