অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল।
বুধবার নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে হেফাজতের চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মাওলানা আবদুল আউয়ালের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ন-মহাসচিব মামুনুল হক।
তিনি জানান, হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর নির্দেশে তারা মাওলানা আবদুল আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন।
মামুনুল বলেন, সম্প্রতি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নায়েবে আমির আব্দুল আউয়ালের ভুল বোঝাবুঝি ও মান-অভিমান সৃষ্টি হয়েছিল। সবার অনুরোধে সবকিছু ভুলে গিয়ে আব্দুল আউয়াল তার পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন। পূর্বের পদে বহাল থেকেই তিনি হেফাজতের পরবর্তী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবেন।
গত ২৮ মার্চ সারা দেশে হরতাল কর্মসূচীতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কে সহিংসতা সৃষ্টি, গাড়ি পোড়ানো ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মারধরের ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে অভিযোগ অস্বীকার করে মামুনুল হক বলেন, সকাল ৬টা থেকে তাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অগণতান্ত্রিকভাবে তাদের উৎখাত করতে চাইলে কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তবে হেফাজতের কেউ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ বা সাংবাদিকদের মারধর করেনি।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধি দল মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করতে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে ডিআইটি মসজিদে এসে উপস্থিত হন। আসর নামাজের জামাত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করেন হেফাজতের যুগ্ন-মহাসচিব মামুমনুল হক।
এ সময় প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ন-মহাসচিব ফজলুল করীম কাসেমী এবং যুগ্ন-মহাসচিব মুফতি নাসির উদ্দিন মনির। সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।
এর আগে গত ২৮ মার্চ শবে বরাতের রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বয়ানে নানা ক্ষোভের বিষয় তুলে ধরে হেফাজতের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মাওলানা আবদুল আউয়াল।
এ সময় মাওলানা আব্দুল আউয়াল দলীয় নেতাকর্মীরা তার নির্দেশনা মানছেন না বলেও অভিযোগ তোলেন।
পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে ‘শায়েখ মাওলানা আবদুল আউয়াল সাহেব সমর্থক’ নামের একটি পেইজে তার পদত্যাগ সংক্রান্ত বক্তব্যের একটি ভিডিওচিত্র আপলোড দেয়া হয়।
৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে আবদুল আউয়াল হেফাজতে ইসলাম দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। পরে তার বক্তব্যের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। মাওলানা আবদুল আউয়াল গত প্রায় ৩০ বছর রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
