বগুড়ার শেরপুরে ঘরে আটকে রেখে স্ত্রী ও ছেলেকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে শেরপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। শাহনাজ খাতুন নামে ভুক্তভোগী ওই নারীর দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে উঠতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার স্বামী নজরুল ইসলাম। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে দমকল বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে ঘটনার পর থেকেই গৃহকর্তা নজরুল ইসলাম পলাতক।
স্থানীয়রা জানান, চার বছর আগে বরিশালে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন নজরুল। এরপর থেকে প্রথম স্ত্রী শাহানাজ খাতুনকে খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেন তিনি। শাহনাজ তার ছেলে, ছেলের বউ ও শাশুড়িকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন। গত কিছুদিন ধরে এলাকায় এসে তাদের (স্ত্রী-সন্তানকে) বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন নজরুল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে তিনি বাড়িতে গিয়ে ছেলে নোমান, ছেলের বউ মুক্তা ও স্ত্রী শাহানাজ খাতুনকে মারপিট করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। ফোন পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বেলা ১১টার দিকে স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে আটকে বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেন। এলাকাবাসী বাইরে থেকে ওই বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
নজরুলের ছেলে নোমান জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ি থেকে চলে যেতে তাদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন তার বাবা। তাই বাড়ি না ছাড়ায় সবাইকে পুড়িয়ে মারতেই ঘরের বাইরে থেকে আগুন লাগিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী শাহানাজ খাতুনের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে উঠতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তার স্বামী।
শেরপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘৯৯৯’-এ একটি ফোন পেয়ে সেখানে পৌঁছে তাদের পারিবারিক সমস্যা মেটানো হয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে ওই বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
