নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ‘শতাধিক’ যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক যাত্রী।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর মদন ঘাট এলাককায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সার্ভিসের ডুবুরি দল জানিয়েছে, জীবিত ১১ জনকে উদ্ধার করেছে তারা। নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিআইয়ের ট্রাফিক পরিদর্শক বাবু লাল জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চস্টেশন থেকে এমবি হাবিব আল হাসান নামে লঞ্চটি বন্দর কালুঘাট শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে মুন্সীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় পেছন থেকে একটি কার্গো জাহাজ লঞ্চটিকে ধাক্কা দিয়ে ভাসিয়ে ৫০ ফুট দূরে ব্রিজের নিচে নিয়ে যায়। এতে অর্ধশতাধিক যাত্রীবাহী লঞ্চটি কাত হয়ে ডুবে যায়।
তবে জীবিত উদ্ধার হওয়া একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, ‘লকডাউনের’ খবরে লঞ্চটিতে উপচে পড়া ভীড় ছিল। এতে কমপক্ষে শতাধিক যাত্রী ছিল। তাদের বেশিরভাগই মুন্সীগঞ্জের।
ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে সাঁতরে তীরে ওঠা মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা শ্রমিক আলম মিয়া বলেন, ‘আমি লঞ্চের পেছনের ছাদে ছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি কার্গো জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে আমাদের লঞ্চটিকে ভাসিয়ে ব্রিজের নিচে নিয়ে আসে। পরে লঞ্চটি ডুবে যায়। আমি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হই।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে তারা উদ্ধারকাজে নামতে পারছে না। অন্যদিকে সন্ধ্যার পর থেকেই নদীর তীরে নিখোঁজ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে আশপাশের পরিবেশ।
বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই নারী।’
তিনি আরও জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে আটজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনজন নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
