বিধিনিষেধের প্রথম দিন ব্যাংকে লেনদেন কম

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫০ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রকোপ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপের প্রথম দিনে ব্যাংকে গ্রাহকের আনাগোনা থাকলেও আগের দিনের মতো ছিল না বাড়তি চাপ। মাসের শুরু হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধিনিষেধের মধ্যেও বেতনের টাকা তুলতেই ব্যাংকে আসেন। তবে ব্যাংকারদের ভাষ্য, অন্যান্য দিনের তুলনায় লেনদেন হয়েছে অর্ধেক এটিএম বুথ থেকেই বেশি মানুষ টাকা তুলেছেন। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গতকাল সোমবার থেকে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো সীমিত আকারে চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গ্রাহকরা লেনদেনের সুযোগ পেয়েছেন।

গতকাল রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকের শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ ব্যাংকের কাউন্টারগুলোতে অন্যান্য দিনের চেয়ে গ্রাহক কম ছিল। আবার অনেক ব্যাংকে স্বাস্থ্যবিধির কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে গ্রাহকরা বাইরেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বেলা ১১টায় সোনালী ব্যাংকের লোকাল শাখায় আসেন রাজধানীর মানিকনগরের ওবায়দুর রহমান। তিনি জানান, আমি প্রতি মাসের বেতন পাওয়ার পর ৪-৫ তারিখের মধ্যে  মাসিক আমানত স্কিমের প্রিমিয়াম জমা দিই।

রবিবার ব্যাংকে অনেক ভিড় ছিল, সে কারণে সোমবার কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই টাকা জমা দিতে পারেন তিনি। অন্যান্য দিনের মতো লম্বা সারিতে দাঁড়াতে হয়নি তাকে।

সোনালী ব্যাংকের লোকাল শাখার মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘লকডাউনের কারণে যানবাহন কম। ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। এসব কারণে গ্রাহকের উপস্থিতি কম। এছাড়া রবিবার অনেকেই টাকা তুলে নিয়ে গেছেন, লেনদেন স্বাভাবিক দিনের তুলনায় তিনগুণ বেশি হয়েছিল। আজ (সোমবার) অন্যান্য দিনের তুলনায় লেনদেন অর্ধেকের চেয়েও কম হয়েছে। দু-একদিন গেলে আবার গ্রাহক বাড়বে এবং লেনদেনও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা। 

সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম আযম ফারুক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে। যথানিয়মে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করে আমরা গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় লেনদেন কিছুটা কমেছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। 

মতিঝিল দিলকুশার সিটি ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্যিক শাখায় গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্যাংক শাখাগুলোতেও ছিল গ্রাহকদের আনাগোনা। 

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছি। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সীমিতসংখ্যক গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে শাখার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।’ তবে তার ধারণা ব্যাংকের শাখায় লেনদেন অর্ধেকে নামলেও এটিএম বুথে চাপ ছিল বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত