প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১৪ জঙ্গির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ০১:১৭ এএম

২০ বছরের বেশি সময় আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সমাবেশস্থলে বোমা পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় বিচারিক  আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১৪ জঙ্গির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের নথি) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত সোমবার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। সংশ্লিষ্ট শাখায় যাচাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির পর্যায়ে আসবে।’

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতে আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় হলে সেটি অনুমোদনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে রায়সহ যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এটিই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিলের সুযোগ পান এবং তাদের পক্ষে জেল আপিলও হয়। তবে দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা আপিলের সুযোগ পান না।

আলোচিত এ মামলায় গত ২৩ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আসামিদের দন্ডবিধির ১২১/ ৩৪/ ১০৯ ধারায় মৃত্যুদন্ডের রায় দেন। রায়ে আসামিদের একটি ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে আদালত বলে, কোনো কারণে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে কর্তৃপক্ষের অসুবিধার কারণ থাকলে প্রচলিত নিয়ম অনুসারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রত্যেকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

সর্বোচ্চ দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. আজিজুল হক ওরফে শাহনেওয়াজ  (পলাতক), মো. লোকমান (পলাতক), মো. ইউসুফ ওরফে মোছহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন (পলাতক), মোছাহেব হাসান ওরফে রাশু (পলাতক),  মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস, সরোয়ার হোসেন মিয়া, শেখ মো. এনামুল হক (পলাতক), মো. মফিজুর রহমান ওরফে মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজ, মো. মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশিদ ওরফে মাহমুদ, মো. রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমুল খান ওরফে রাশেদ খাঁ, মো. তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখ ওরফে গাজী খান ওরফে মেহেদী হোসেন, মাওলানা আমিরুল ইসলাম ওরফে জেন্নাত মুন্সী ওরফে দেনত আলী মুন্সী এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। দন্ডিত আসামিরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) সদস্য। একই ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলায় ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট বিচারিক আদালতে যে ১০ জঙ্গির মৃত্যুদন্ডের রায় হয় তাদেরও ফায়ারিং স্কোয়াডে দন্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ১০ আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় হাইকোর্টেও বহাল রয়েছে।  

২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজের মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থল সংলগ্ন উত্তর দিকে একটি চায়ের দোকানের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনা ধরা পড়ে। পরদিন ৪০ কেজি ওজনের আরেকটি বোমা পাওয়া যায়। আলোচিত এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১২১, ১২১ (ক), ১২২, ১২৪ (ক), ৩৪ এবং ১০৯ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত