ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার কারণ হিসেবে নারীর পোশাককে দোষারোপ করে তোপের মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খান মন্তব্য করেন, ‘যেকোনো সমাজেই ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে, সেখানে অশ্লীলতা বেড়ে গেছে।’বিবিসি বলছে, ওই সাক্ষাৎকারে ইমরান খান নারীদের শালীন পোশাক পরার পরামর্শও দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পর্দা করার সারবস্তুই হলো আকর্ষণ করা থেকে বিরত থাকা। নিজেকে বিরত রাখার ইচ্ছাশক্তি সবার নেই।’
ইমরান খানের ওই মন্তব্যের পর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন। তারা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী ‘ধর্ষণকে ক্ষমার চোখে’ দেখতে চাচ্ছেন। নিজের মন্তব্যের জন্য তারা ইমরান খানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন এবং এ দাবির পক্ষে অনলাইনে গত বুধবার একটি বিবৃতিতে অনেকেই স্বাক্ষর করেছেন। বিবৃতিতে ইমরান খানের মন্তব্যকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, রূঢ় ও বিপজ্জনক’ আখ্যায়িত করা হয়। এতে বলা হয়, ‘ধর্ষণের ঘটনার অপরাধ কেবলমাত্র ধর্ষকের ওপরই বর্তায় এবং (ইমরান খানের মন্তব্যের মতো) বক্তব্যের সংস্কৃতি ধর্ষককে উৎসাহিত করে।’ এর আগে হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান মন্তব্য করে, ইমরান খানের মন্তব্যে তারা ‘হতভম্ব’ হয়েছে।
নারীদের নিরাপত্তা ও সমতার বিচারে বিশ্বের সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম একটি পাকিস্তান। সেখানে তথাকথিত ‘অনার কিলিং’-এর নামে পরিবারের সদস্যরাই নারীদের নির্যাতন, এমনকি হত্যাও করে।
