রাজশাহীতে আনসার সদস্য খুনের ঘটনায় বন্ধু গ্রেপ্তার

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৩:২৬ পিএম

রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে আনসার বাহিনীর সদস্য মিজানুর রহমান মিজানকে (৩৬) হত্যার ঘটনায় তার বন্ধু মাধব কুমারকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পালানোর সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা-পুলিশ।

এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে নিহতের মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় মাধবসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আরও ২/৩জনকে আসামি করা হয়েছে।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে মিজানকে ছুরিকাঘাতের পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় মাধবও হাসপাতালে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানকে মৃত ঘোষণার পরপরই মাধব সেখান থেকে সটকে পড়েন। হাসপাতাল থেকে তিনি সরাসরি বাড়িতে ঢোকেন। বাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে গিয়ে অসংলগ্নভাবে ঘোরাফেরা করেন মাধব। অটোরিকশায় চড়ে তিনি একেকবার একেক এলাকায় যান। তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বোয়ালিয়া থানা-পুলিশ পুঠিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাত ৮টার দিকে মহানগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভেতর আনসারদের একটি কোয়ার্টারের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান আনসার বাহিনীর হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসেও তিনি আনসার বাহিনীর দলে ছিলেন। সম্প্রতি ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। এসেই হত্যার শিকার হলেন।

তার বাড়ি নগরীর হেতেমখাঁ সবজিপাড়া মহল্লায়। বাবার নাম মো. মন্টু মিয়া। গ্রেপ্তারকৃত মাধব কুমারেরও বাড়ি একই এলাকায়। 

এলাকাবাসী জানান, হেতেমখাঁ এলাকায় ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পাশে রেজা নামে এক ব্যক্তির দোকান আছে। লকডাউন চলার কারণে মিজানুর ওই দোকানিকে লাইট বন্ধ করে ব্যবসা করতে বলেন। কিন্তু কেন লাইট বন্ধ করতে হবে এই প্রশ্ন তুলে মিজানুরের সঙ্গে তর্কে জড়ান মাধব।

এ সময় তাদের দুজনের হাতাহাতিও হয়। তখন অন্য বন্ধুরা তাদের থামান। এরপর মিজানুর ওয়াটার প্লান্টের ভেতরে ঢুকে অন্য আনসার সদস্যদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন।

কিছুক্ষণ পর মাধব গিয়ে মিজানকে আচমকা ছুরিকাঘাত করেন। পরে মাধবসহ আরও কয়েকজন তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মাধব পালিয়ে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত