ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গঠিত একটি তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের কাছে প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসলাম মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।পরে আসলাম মোল্লা বলেন, ‘তদন্তে গিয়ে আমরা প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি পেয়েছি। এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ‘সালথা সহিংসতার ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির একটি আজ (গতকাল) প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে প্রধান করে অন্য কমিটি প্রতিবেদন দিতে আরও দুই দিন সময় নিয়েছে। দুটি প্রতিবেদন আসার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা জানান, সহিংসতার ঘটনায় দায়ের পাঁচটি মামলায় নতুন করে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এদের মধ্যে মিরান মোল্লা (৩৫) নামে একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গ্রেপ্তার গুলিবিদ্ধ দুজনকে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫৮ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৮ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দুই আনসার সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে ফুকরা বাজারে অভিযান চালান সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। তিনি ফিরে আসার পর এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
এ সময় পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত ও বাহিরদিয়া মাদ্রাসার মাওলানা আকরাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাজারো মানুষ থানা ঘেরাও করে। একই সময়ে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা গুলি-টিয়ারশেল ছুড়লে বহু মানুষ আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুবায়ের হোসেন (২৫) ও মিরান মোল্যার (৩৫) মৃত্যু হয়।
