আওয়ামী লীগ নেতার শেষকৃত্যে এগিয়ে এলেন মুসলিমরা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২৬ পিএম

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মানিক মজুমদারের শেষকৃত্য কাজে এগিয়ে এসেছেন মুসলিমরা। রবিবার সকালে মানিক মজুমদার মারা গেলে এলাকায় গুজব রটে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাই সে গ্রামের  হিন্দুরা এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ পরিবারের। কিন্তু তার শেষকৃত্যের কাজে এগিয়ে এসেছেন মুসলিমরা।

মানিক মজুমদারের গ্রামের বাড়ি মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের আকানগর গ্রামে। তিনি প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

পরিবারের লোকজন জানায়, মানিক মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে ডায়বেটিস, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। এর মধ্যে গত সপ্তাহে বাঘাবাড়ী কালী মন্দিরের কীর্তনের মিটিংয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। তারপর এলাকাতেই স্থানীয় ডাক্তারের সহায়তায় একটু সুস্থ হন। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে উপজেলা সদরে গেলে তার বুকে ব্যথা অনুভূত হয় এবং এর তীব্রতা বাড়লে পরিবারের লোকেরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার উত্তরায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রবিবার সকাল পর্যন্ত তিনি মোট তিনবার স্ট্রোক করেন। পরে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। তবে তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। পরে রবিবার দুপুরে মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসলে সনাতন ধর্মের অনেকেই এগিয়ে আসেনি এবং সৎকারে মুসলিমদের উপস্থিতি বেশি ছিল বেশি।

পরিবার জানায়, শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের আশপাশের আট থেকে দশ গ্রামের ৩০ জন উপস্থিত ছিলেন। আর মুসলমান সম্প্রদায়ের গোতাশিয়া ইউনিয়নসহ পাশের বেলাব ও শিবপুর উপজেলার প্রায় ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন।

বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উপজেলা পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইকবাল আহমেদ, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান তামান্নাসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ সময় শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ ভার্চ্যুয়াল শেষকৃত্যের কাজে উপস্থিত থেকে পরিবারকে সমবেদনা জানান। পরে সন্ধ্যায় আকানগর শ্মশানঘাটে শেষকৃত্যের কাজ সম্পন্ন হয়।

আকানগর গ্রামের বাসিন্দা মজিদ মাস্টার বলেন, আমরা মানিক বাবুর সঙ্গে একসঙ্গে চলাফেরা করেছি। তিনি আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছে। কিন্তু তার মৃত্যু করোনায় হয়েছে গুজব ছড়িয়ে তার ধর্মাবলম্বীর অনেকে উপস্থিত ছিলেন না। আমরা শেষকৃত্যের সময় পাশে থেকে তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছি।

মানিক মজুমদারের ভাতিজা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নেতা সুব্রত মজুমদার তুহিন বলেন, জ্যাঠা করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু করোনার গুজবে অনেক কাছের মানুষ এগিয়ে আসেনি। চার ভাগের তিন ভাগই ছিল মুসলিম, একভাগ হিন্দু।  গ্রাম অঞ্চলে গুজব বেশি ছড়ায়, করোনায় মারা গেছে, এ গুজবের কারণে বেশ কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক এগিয়ে আসেনি। অথচ আমাদের লাশ সৎকারে হিন্দুদেরই সবার আগে এগিয়ে আসার কথা ছিল। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মুসলিমরা এসেছে এটা ইতিবাচক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত