বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচির সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ কারণে সরকার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে। গতকাল সোমবার বিএনপির দপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভয়াবহ করোনার মধ্যেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নিরীহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে তাদের বাড়ি বা পাড়া-মহল্লায় অভিযান চালিয়ে হয়রানি করছে। পুলিশের অপকীর্তি ও হামলায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নেতাকর্মীদের দমন করতে চাচ্ছে। এটা সরকারের ভ্রষ্টাচার নীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।’
খুলনায় ‘পুলিশের হামলায়’ আহত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ বাবুল কাজীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ এবং ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নওগাঁ, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়াসহ দেশব্যাপী পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান বন্ধ, গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে এ বিবৃতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি গত ২৯ মার্চ দেশব্যাপী মহানগর ও ৩০ মার্চ জেলা সদরে প্রতিবাদ বিক্ষোভের ডাক দেয়। দলের এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় পুলিশ ব্যাপক হামলা, গুলিবর্ষণ ও লাঠিচার্জ করে। খুলনা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ, হামলায় বিএনপি নেতা বাবুল কাজীসহ ৩০ জন আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ বাবুল কাজী গত রবিবার রাতে ইন্তেকাল করেন। পুলিশের হামলায় এ ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই।’
