বাঁশখালীতে সংঘর্ষে পুলিশের গুলি, ৫ শ্রমিক নিহত

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৪১ এএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের একটি বেসরকারি কোম্পানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে শ্রমিক-পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আহত শ্রমিকরা বলছেন, তাদের বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। সরেজমিন গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) থেকেই বেতনভাতা নিয়ে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ শুরু হয়। এ নিয়ে কারখানা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে সভাও হয়। কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় শ্রমিকরা সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই সময় কেন্দ্রটিতে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা সদস্যরা দায়িত্বরত ছিলেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে তাদের ওপরও হামলা করেন শ্রমিকরা। তখন আত্মরক্ষায় ও শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।’ তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্রমিকরা বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ ও চীনা শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে ও বিদেশি শ্রমিকদের জানমাল রক্ষায় পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিক নিহতের পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রকল্পে হামলা চালিয়ে গাড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রে আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

সংঘর্ষে নিহতরা হলেন বাঁশখালীর গন্ডামারা এলাকার আহমদ রেজা মীর খান (১৮), অলি উল্লাহর ছেলে রনি হোসেন (২২), নুরুজ্জামানের ছেলে শুভ (২৪), মো. ফালু মিয়ার ছেলে মাহামুদুল হক রাহাত (২৪) ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আদর্শ গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মো. রায়হান (২৫)। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ প্রথম চারজন বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রায়হান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, মোরশেদ (২২), খোরশেদ (১৯), ইমন (২০), অভি (২২), রেজাউল (২৩), রাজু (২৩), সাকিব (২০), শামীম (৩০), আবদুল কাদের (২৫), রাজা মিয়া (২৫), তোফাজ্জল (২০), আবু ছৈয়দ (২০), জোবাইদা আক্তার (২১), শিমুল (২৩), শাকিল (২৩), বেলাল আহমদ (৪৫) ও মিজানুর রহমান (২২)। তাদের বাঁশখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হাবিব উল্লাহ (২১), মো. রাহাত (৩০), মিজান (২২), মো. মুরাদ (২৫), মো. শাকিল (২৩), মো. কামরুল (২৬), মাসুম আহমদ (২৪), আমিনুল হক (২৫), মো. দিদার (২৩), ওমর (২০), অভি (২২), গণ্ডামারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য ইয়াসির (২৪), আবদুল কবির (২৬) ও আসাদুজ্জামানকে (২৩) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবশ্য আহত অনেকের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষের কাছে বকেয়া বেতন পরিশোধ, বেতন বাড়ানো, শুক্রবার এক বেলা কাজ করা, রমজানে কাজের সময় কমিয়ে আনা, ইফতারের জন্য বিরতি দেওয়া ইত্যাদি নানা দাবি জানিয়ে আসছিলেন শ্রমিকরা। শুক্রবার এসব দাবি-দাওয়ার বিষয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বৈঠক হয়। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ শ্রমিকদের এসব দাবি মানতে সম্মত না হলে শ্রমিকরা শনিবার সকালে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি দেন। সেই কর্মসূচির পালনের জন্য সকালে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন  স্লোগান দেন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে তারা চীনা শ্রমিকদের শেডের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাধে। শ্রমিকরা এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশ গুলি চালায়। তখন এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, পুলিশের গুলিতে শ্রমিক মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন পুরো প্রকল্প ঘিরে ফেলে এবং লুটপাট চালায়। তারা প্রকল্পের বেশকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় শ্রমিক মো. হাবিব জানান, প্রকল্পের কর্মরত শ্রমিকদের ৮-১০টি দাবি নিয়ে পাঁচজন শ্রমিক নেতা শুক্রবার প্রকল্পের দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে কোনো ধরনের সমাধান না হওয়ায় শনিবার সকালে আবারও কথা বলতে চাইলে ঘটনাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার কথা বলে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে না দেওয়ায় প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, পরে তা গোলাগুলিতে রূপ নেয়।

নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. ফারুক জানান, ঘটনার পর প্রকল্পের অভ্যন্তরে অনেক মালামাল ও জিনিসপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর তালিকা এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে প্রকল্পের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইডি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। বেলা ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসএস পাওয়ার কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির হোসেন, বিদ্যুৎ বিভাগের একজন প্রতিনিধি ও শ্রম বিভাগের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেনকে প্রধান করে পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবিদাওয়াগুলো মেনে নিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা

বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠন। পৃথক বিবৃতিতে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত-আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনগুলো। গতকাল বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এসব বিবৃতিতে নিন্দা প্রকাশ করা হয়। কয়েকটি সংগঠন এ বিষয়ে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি ৬৮ নাগরিকের : ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মানবাধিকার নেত্রী ড. হামিদা হোসেন, সুলতানা কামালসহ দেশের ৬৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, বকেয়া মজুরির দাবিরত শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা আইনের শাসনের পরিপন্থী। বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুসারে পুলিশ কোনো অবস্থাতেই নিরীহ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর অনুমতি পেতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইন অমান্য করার দায় সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের ও গুলিবর্ষণের ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার-বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি এবং দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

মির্জা ফখরুলের নিন্দা : ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘যেকোনো ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অপব্যবহারের ফলে বারবার এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’

শ্রমিক হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেন।

বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি সিপিবির : ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এক বিবৃতিতে দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, কাজ করিয়ে মজুরি না দেওয়া এবং বকেয়া মজুরি দাবি করলে গুলি করে হত্যা করা একটা জঘন্য অপরাধ।

সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই : বাঁশখালীর ঘটনার পর সরকারের আর একমুহূর্ত ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এক বিবৃতিতে ডাকসুর সাবেক এ ভিপি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

শ্রমিক হত্যার নিন্দা জাসদের : বাঁশখালীর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। দলটির নেতারা শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের দাবি জানান। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি এক বিবৃতিতে অবিলম্বে ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

ঢাবিতে ৮ সংগঠনের বিক্ষোভ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বামপন্থিদের আটটি ছাত্র সংগঠন। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শ্রমিক নিহতের ঘটানায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করা হয়।

রাজধানীতে মশাল মিছিল : ঘটনায় প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন। সংগঠনের নেতারা বলেন, বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে। শ্রমিক হত্যার ঘটনা স্বৈরাচারী সরকারেরই প্রতিচ্ছবি।

শ্রমিকের নিহতের ঘটনায় আসকের নিন্দা : ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল আসকের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, আসক মনে করে, বেতনভাতার মতো ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করা শ্রমিকদের অধিকার। করোনার সময় যেখানে দেশের নানা প্রান্তে শ্রমিকরা কাজ করতে না পেরে অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে সেখানে বাঁশখালীতে কাজ করেও বেতন না পেয়ে নিজের ন্যায্য বেতন আদায়ের আন্দোলনে পুলিশের এমন গুলি ছোড়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।

দ্রুত বিচারের দাবি শ্রমিক ফ্রন্টের : শ্রমিক হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এক বিবৃতিতে বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ক্ষোভ : গুলি করে পাঁচ শ্রমিক হত্যায় নিন্দা জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনের সভাপতি শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার এক বিবৃতিতে বলেন, বিক্ষোভরত অনাহারী ও নিরস্ত্র শ্রমিকদের গুলি করে হত্যার দায় সরকারের।

স্কপের নিন্দা : বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ ও পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যুতে ক্ষোভ জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতারা দায়ীদের শাস্তি জানিয়ে শ্রমিকদের পাওনা অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত