পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই কাটা হচ্ছে শতবর্ষী গাছ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৩ এএম

মেহেরপুরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর সড়কের শতবর্ষী কয়েকটি গাছ কেটে ফেলছে জেলা পরিষদ। ইতিমধ্যে চারটি বিশাল আকৃতির গাছের ৩ লাখ ১০ হাজার ৫শ টাকা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে নিলামও সম্পন্ন হয়েছে। মেহেরপুরের মুজিবনগরের যতারপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ জেলা পরিষদের কাছ থেকে এই চারটি গাছ নিলামে কিনে কাটার অনুমতি পেয়েছেন। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই জেলা পরিষদ শতবর্ষী এসব জীবন্ত গাছ কেটে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের মোনাখালী, দারিয়াপুর, কেদারগঞ্জ ও মুজিবনগর এই ৪টি স্থানে শতবর্ষী বিশাল আকৃতির গাছ চারটি এতদিন পথচারীদের ছায়া দিয়ে আসছিল। চারটি গাছই তরতাজা ও জীবন্ত। গাছগুলোর কোনো ডাল বা পাতা

শুকিয়ে মরে যাচ্ছে এমন দেখা যায়নি। পাঁচ বছর আগে মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য সড়কের পাশের ১২৯টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলা পরিষদ। তবে তখন পরিবেশবাদীদের চরম আপত্তির মুখে ওই গাছগুলো না কেটেই রাস্তা সম্প্রসারণ ও প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হয়। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, মোনাখালী মোড়ের গাছটির মাথা বিশাল হওয়ায় গাছটি সড়কের ওপর কিছুটা হেলে পড়েছে। এ কারণে এই গাছটিকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। তাছাড়া অন্য গাছগুলো নিয়ে স্থানীয় কারও কোনো আপত্তি নেই। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী অন্য তিনটি গাছ কাটার বিপক্ষে মত দিয়েছে।

মুজিবনগরের দারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা আকমল হোসেন (৬৮) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই মুজিবনগর ডিগ্রি কলেজের সামনের এই গাছগুলো দেখছি। খরার সময় মানুষজন গাছের নিচে মাচা তৈরি করে দিনে-রাতে ঘুমিয়ে আড্ডা দিয়ে সময় কাটায়। গাছগুলো ভালোই ছিল। সরকারিভাবে কেন গাছগুলো কাটা হচ্ছে তা জানি না।’

এর আগে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়ক প্রশস্ত ও সম্প্রসারণের কথা বলে মেহেরপুর জেলা পরিষদ ৬ শতাধিক গাছ কেটে সাবাড় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এক সময়ে সড়কগুলো ছিল গাছের ছায়াঘেরা। এখন বৃক্ষহীন এই সড়কগুলোর বুক ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় গরমে পিচঢালা পথ যেন আগুনের উত্তাপ ছড়ায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল আলম বলেন, ‘কাটার জন্য চিহ্নিত চারটি গাছ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যখন তখন বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। অসংখ্য পথচারীর জীবন কেড়ে নিতে পারে। তাই ওই চারটি গাছ কাটতে বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতিসহ গাছ কাটার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়েছে। মূল্য নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে নিলামে গাছগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।’

জনস্বার্থে মেহেরপুর জেলা পরিষদ গাছগুলো কাটছে দাবি করে জেলা পরিষদের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগে না সরকারি গাছ কাটতে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত