বিদেশে সেঞ্চুরির আক্ষেপ ঘুচল মুমিনুলের

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪২ এএম

পাল্লেকেলের দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ২৫ ওভার খেলা না হওয়ায় প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন রান কম হয়েছে,

তবে অর্জনের খাতা ছিল ভরপুর। অধিনায়ক মুমিনুল হক তার পিঠে লেগে থাকা দীর্ঘদিনের কলঙ্ক ঘুচিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলেছেন। লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১৬৩)। দু’জনের ২৪২ রানের জুটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। তৃতীয় উইকেটের সর্বোচ্চ তো বটেই। অর্জনের খাতাটা দিনশেষে বাড়তে পারেনি মেঘের কারণে। আলোর স্বল্পতায় দ্বিতীয় দিন শেষ সেশনে মাত্র ১০ ওভার হয়। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৭৪। আজ সকালে ১৫ মিনিট আগেই ব্যাট করতে নামবেন ৪৩ রানে অপরাজিত মুশফিকুর রহিম ও ২৫ রান নিয়ে লিটন দাশ।

দিনের শেষে দেড় ঘণ্টার মতো না হারালে বাংলাদেশের স্কোর সাড়ে ৫০০ হতে পারত। স্বাগতিকদের চাপে ফেলতে বাংলাদেশের লক্ষ্য সংগ্রহটা বিশাল করা। সেই লক্ষ্যে গতকালের পথচলা আশানুরূপ ছিল না। প্রথম দিনে ৩০২ রান করা গেছে ৯০ ওভারে। কিন্তু কাল ৬৫ ওভারে এসেছে মাত্র ১৭০। আগের দিন ওভারপ্রতি ৩.৩৭ রান করে এসেছিল, কাল ২.৬১। তবে দলীয় রানে পিছিয়ে থাকলেও দিনের অর্জনগুলো টেস্টে বাংলাদেশের অস্বস্তি কাটিয়ে দিয়েছে। উইন্ডিজ সিরিজের ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে এগোচ্ছে মুমিনুল হকের দল। টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ ৬৩৮ রান কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই। সেই স্কোর এখনো অনেকটা পথ। তবে ২০১৮তে চট্টগ্রামে তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ ৫১৩ রান টপকানো এখন সময়ের ব্যাপার।

দলীয় হিসাব পাশে রাখলে কালকের দিনটি মুমিনুলের। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কাতেই টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু তার। ৮ বছর অপেক্ষার পর সেখানেই আরেক শুরু করলেন এই বাঁহাতি। বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরি। এই সময় শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, উইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, ভারত ও পাকিস্তানের মাটিতে খেলেছেন মুমিনুল। ১৭ টেস্টে ২২.৩০ গড়ে রান মাত্র ৭৩৬। একই সময়ে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ সেঞ্চুরি হয়ে গেছে তার। কিন্তু বিদেশে গেলেই পারছিলেন না। ‘বিদেশি’ সেই সেঞ্চুরির অভিষেকটা হলো গতকাল, যা গত ৬ ইনিংসে তার পারফরম্যান্সকে রাঙাল আরও। ৬ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরি নেতৃত্ব নিয়ে যে সমালোচনা, সামনে থেকে লড়ে মুমিনুল সেই জবাবটাও দিয়ে দিলেন কী!

দেশের বাইরে শ্রীলঙ্কার মাটিই মুমিনুলের প্রিয়। এতদিন দ্বীপদেশটিতেই বেশি রান ছিল তার; দুই হাফসেঞ্চুরিতে ১৬৮। প্রিয় সেই লঙ্কাতেই সেঞ্চুরি না করার আক্ষেপ ঘোচালেন। তাড়াহুড়ো করেননি। আগের ১০ সেঞ্চুরির চেয়ে সবচেয়ে বেশি বল খেলেছেন এবার। ৬৪ রান নিয়ে গতকাল আবার খেলতে নেমে ১২৭ করতে ৩০৪ বল খেলেছেন মুমিনুল। আগের সবচেয়ে মন্থর ইনিংসটি ছিল ২৭৪ বলের; নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ১৮১। পাল্লেকেলের সেঞ্চুরি দেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট শতরানের রেকর্ডটা আরও বাড়ালেন মুমিনুল। তার নামের পাশে এখন ১১টি সেঞ্চুরি। ৯ সেঞ্চুরি নিয়ে দ্বিতীয় তামিম ইকবাল।

এদিন শান্তকে নিয়ে নিজের একটি রেকর্ড ভেঙেছেন মুমিনুল। একার নয় অবশ্য, সঙ্গে মুশফিকুর রহিম ছিলেন, জুটির রেকর্ড। তৃতীয় উইকেটে দেশের হয়ে আগের সেরা ২৩৬ রানের রেকর্ড ভেঙেছে মুমিনুল-শান্তর ২৪২ রানের জুটি। আগেরটিও (২৩৬) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই, ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে। তবে অল্পের জন্য বলের হিসাবে সেরা জুটিটি হলো না তাদের। ৫১৪ বল খেলে ওই রান করেছেন মুমিনুল-শান্ত। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি বলের জুটিটি ৫১৮ বলের। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৭ রানের জুটিতে ওই সংখ্যক বল খেলেছিলেন আশরাফুল-মুশফিক।

ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পর শান্ত বলেছিলেন, দ্বিতীয় দিনে তার লক্ষ্য হবে লম্বা সময় ক্রিজে থাকা। লাঞ্চ পর্যন্ত অধিনায়কের তুলনায় ধীরেই এগিয়েছেন তিনি। ১৫৫ রান নিয়ে লাঞ্চ শেষে ফিরে সেশনের সপ্তম ওভারে বোলার লাহিরু কুমারাকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। ৩৭৮ বলে ১৭ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ১৬৩ রান করেন তিনি। তার চেয়ে ৭৪ বল কম খেলেছেন মুমিনুল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত