শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে টেস্টে শেখার পর্ব শেষ করার কথা বলেছিলেন মুমিনুল হক। এই সিরিজ থেকে জিততে চান অধিনায়ক। কিন্তু প্রথম টেস্টের চার দিন দুই দলের কারও সামনেই জয় উঁকি দিচ্ছে না। এমন অবস্থাতেও জয়ের কথা বাংলাদেশের কারও মুখ থেকে নয়, শোনা গেল শ্রীলঙ্কান কোচ মিকি আর্থারের কণ্ঠে। লঙ্কান প্রোটিয়া কোচ জানান, উইন্ডিজ সফর থেকেই দলের মানসিকতা বদলানোর চেষ্টায় আছেন। দলকে অজেয় বানাতে চান তিনি। এদিকে চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাসকিন আহমেদ জানালেন, এমন উইকেটে কীভাবে ভালো করতে হয় তা শিখছেন তারা।
পাল্লেকেলে টেস্টের মরা উইকেটে কিছুই করার দেখছেন না তাসকিন। দিনে বিনা উইকেটে ২৮৩ রান দেওয়া বোলারদের পক্ষ হয়ে শ্রীলঙ্কান বোলারদের উদাহরণ টানলেন। ২০১৭ সালের পর টেস্টে ফিরেই ইনিংসে ২৫ ওভার বল করা তাসকিন বলেন, ‘আসলে সত্যি কথা বলতে টেস্ট ক্রিকেটে এরকম উইকেটে অনেক কঠিন বোলারদের জন্য। ওদের বোলার লাকমলও কিন্তু ৩৫ ওভার বল করেছে, বাকি যারা করেছে ভালো করেছে। তো উইকেটটা এমন যে সুযোগ তৈরি হওয়ার অপশনটাই কম। ভালো বলেও একটু উনিশ-বিশ হলে সেটা বাউন্ডারি হয়ে যাচ্ছে। আমরাও তো ৫৪১ করে ডিক্লেয়ার করেছি। আরেকটু বেটার উইকেট যদি হতো, বোলিংয়ে আরেকটু হেল্প যদি থাকত, তাহলে ভালো হতো। কঠিন ছিল অবশ্যই বোলারদের জন্য।’
উইকেটের এমন অবস্থায় করণীয় কী। আজ শেষদিনে ম্যাচ থেকে ফলাফল বের করার জন্য কী করবেন তাসকিনরা। বাংলাদেশ পেসার অবশ্য এই টেস্টে ড্র ছাড়া কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। তাই শ্রীলঙ্কা কাল ব্যাটিং চালিয়ে গেলে যথাসম্ভব রান আটকানোর দিকেই নজর থাকবে বাংলাদেশের, ‘বেসিক জিনিসটাই ধারাবাহিকভাবে করাটা হলো বিষয়। ফিল্ডিং অনুযায়ী ভালো লেন্থে বল করা মাঝে মাঝে সারপ্রাইজ বাউন্সার করা। সেগুলো আমরা করছি, কিছু সুযোগও তৈরি হয়েছে, দুর্ভাগ্য যে তা গ্যাপে পড়েছে, ক্যাচের মতো হয়ে চার হয়েছে। তবুও আমি মনে করি এটা খুব ভালো ব্যাটিং উইকেট, তো এখানে আসলে আমাদের ধৈর্য নিয়ে ভালো বল করা ছাড়া উপায় নেই। এই টেস্টে ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু এটা যেহেতু ক্রিকেট, যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে।’
তাসকিন এভাবে বললেও লঙ্কান কোচ আর্থার জয়ের খোঁজেই আছেন। উইন্ডিজ থেকেই শিষ্যদের এই অভ্যাস করানোর চেষ্টা করছেন। শিষ্যদের জয়ের মানসিকতা তৈরিতে সচেষ্ট এই কোচ বলেন, ‘আমরা অবশ্যই জয়ের কথা ভাবছি। এভাবেই আমরা ক্রিকেটটা খেলতে চাই। এভাবেই আমরা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এখানে আমরা সংখ্যা (রান) বাড়ানোর জন্য আসিনি। আমরা যথেষ্ট ভালো রেটে রান তুলছি। আমি উইন্ডিজেও সবাইকে বলেছি যে এমন এক দল হয়ে উঠতে চাই যাদের হারানো কঠিন। আমাদের এই মানসিকতা গড়তে হবে। এটা মরা উইকেট তবুও আমরা যথেষ্ট রান তুলতে চাই যেন ম্যাচ জেতার পরিস্থিতি তৈরি হয়।’
শেষ কবে ইনিংসে ২৫ ওভার বল করেছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তাসকিনকে একটু চিন্তা করতে হলো। পরে জানালেন করোনার আগের জাতীয় লিগে করেছিলেন। তবে এবারের ২৫ ওভারে শিখেছেন অনেক। নতুন অভিজ্ঞতার ব্যাপারে বাংলাদেশ পেসার বলেন, ‘আমরা সেরাটা দিয়েছি, বলতে পারেন ভিন্ন অভিজ্ঞতা হচ্ছে, শেখার চেষ্টা করছি যে এরকম উইকেটে কীভাবে ভালো বল করা যায়। আর কামব্যাক করার বিষয়টা আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো লাগছে। আসলে এরকম কন্ডিশনে দেখা যাবে নিজেরও একটা কিছু করার জায়গা থাকে। যেমন নিয়মিত একটা ভালো জায়গায় বল করে যাওয়া। ব্যাটসম্যানকে একটা পরিকল্পনায় বল করা। এটা নিজের জন্য অনেক বড় শিক্ষার ব্যাপার। আর এরকম কন্ডিশনে যথেষ্ট স্কিল ও ফিটনেস না থাকলে ভালো করা যায় না, এটাও একটা বড় শিক্ষা। তো সব কিছুই লাগবে এরকম কন্ডিশনে টিকে থাকার জন্য। আমরা আমাদের মতো সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করছি। আশা করি কাল আরও ভালো দিন হবে।’
