চলমান ‘লকডাউনের’ মধ্যেও ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখীতে পুঁজিবাজার। সাইড লাইনে থাকা বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে অংশ নেওয়ায় চাহিদা বেড়ে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া শেয়ারগুলোর চাহিদা এখনো তলানিতে। ঊর্ধ্বমুখী বাজারে দর হারানোর শীর্ষে ছিল এসব কোম্পানি। তবে এসব শেয়ারের বাজার মূলধন তুলনামূলক কম থাকায় সূচকে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বেশিরভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ১২৫ পয়েন্ট। আর বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ বেড়েছে ১১০ শতাংশ।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে বেশিরভাগ খাত ইতিবাচক ধারায় থাকলেও দর বৃদ্ধি বিবেচনায় গত সপ্তাহে ওপরের সারিতে ছিল বীমা কোম্পানির শেয়ার। বিপরীতে সম্প্রতি ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া শেয়ারগুলোই তুলনামূলক বেশি দর হারিয়েছে। তবে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হলেও কোম্পানিগুলোর দর কমার ক্ষেত্রে নতুন করে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করায় বড় ধরনের পতন রোধ করা গেছে।
গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে যমুনা ব্যাংক। সাড়ে ১৭ শতাংশ লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের পর শেয়ারটি সাড়ে ১১ শতাংশ দর হারিয়ে সর্বশেষ ১৬ টাকা ৬০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। প্রায় ১০ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল জুট স্পিনার্স। এর পরের অবস্থানে থাকা ৮ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত দর হারানো আট কোম্পানির সবগুলো ছিল সম্প্রতি ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া শেয়ার। এগুলো হলো খুলনা পাওয়ার, রিং শাইন টেক্সটাইল, এমএল ডায়িং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ভিএফএস থ্রেড ডায়িং।
ডিএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে এ বাজারে তালিকাভুক্ত ৩৭৫ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৬৯টির কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৬টির, কমেছে ১০০টির। এর বাইরে ৬৩ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর ছিল অপরিবর্তিত বা ফ্লোর প্রাইসে।
বৃহৎ মূলধনি শেয়ারগুলোর দর বৃদ্ধি পাওয়ায় গত সপ্তাহে বাজারমূল্য সূচকগুলোও বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪৩৫ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সূচক বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সার্বিক লেনদেন দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৪ হাজার ২৬০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। বীমা খাতের এ শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ, সর্বশেষ কেনাবেচা হয়েছে সাড়ে ৫৫ টাকা দরে। এ খাতের ঢাকা ইন্স্যুরেন্স ২৫ শতাংশ দর বৃদ্ধি নিয়ে ছিল চতুর্থ অবস্থানে, পৌনে ২৩ শতাংশ দর বৃদ্ধি নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ২০ শতাংশের ওপর দর বৃদ্ধি পাওয়া ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ছিল ষষ্ঠ অবস্থানে। এ ছাড়া দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা ইউনাইটেড ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে যথাক্রমে সাড়ে ১৬ ও ১৮ শতাংশ। বীমার বাইরে ২৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস, তৃতীয় অবস্থানে ছিল হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, যার দর বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ।
ব্লক লেনদেনের বাইরে পাবলিক মার্কেটে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। গত সপ্তাহে শুধু পাবলিক মার্কেটে এই কোম্পানির কেনাবেচা হওয়া শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৬৫১ কোটি টাকার বেশি। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা শেয়ারটির দরও বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ১৮২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, দর বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিডি ফাইন্যান্সের লেনদেন হওয়া শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৮২ কোটি টাকা, দর বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা বাকি শেয়ারগুলো হলো বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, রবি, লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সামিট পাওয়ার ও অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স।
