স্প্যানিশ ফ্লু যেভাবে বদলে দিয়েছিল হলিউডের সিনেমা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩৬ পিএম

করোনা মহামারীতে কঠিন সময় পার করছে চলচ্চিত্র জগৎ। শত বছর আগে স্প্যানিশ ফ্লুর সময়েও চলচ্চিত্র জগতে এমন আঘাত এসেছিল। একের পর এক থিয়েটারে চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কঠিন এ সময়ের সুযোগ নিয়েছিলেন অ্যাডলফ জুকোর নামের একজন প্রযোজক। তার হাত ধরেই হলিউড চলচ্চিত্রে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

চলচ্চিত্র জগতে আঘাত

চলচ্চিত্র জগৎ এমনিতেই বেশ কঠিন জায়গা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা, টাকা, সৃজনশীলতা সবকিছু নিয়ে ভাবতে হয় চলচ্চিত্র তৈরি করার সময়। এসব তো গেল গতানুগতিক সময়ের কথা। কিন্তু যদি কাজ করতে গিয়ে মহামারীর মুখে পড়তে হয়? বাজেটের মধ্যে সিনেমা বানানো, স্টুডিও বন্ধ হয়ে যাওয়া, অভিনেতাদের অসুস্থতা, মুভি থিয়েটার না চলা সবকিছু মিলিয়ে দুরবস্থা তৈরি হতে খুব বেশি সময় লাগে না।

করোনা মহামারীতে ২০২০ সালে চলচ্চিত্র জগৎ প্রথমবার কঠিন সময় দেখছে এমন নয়। ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু’র সময় বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা যখন ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তখন এর আঘাত আসে চলচ্চিত্রের ওপরও। এই মহামারীতে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল। বর্তমান সময়ের মতো ১৯১৮ সালেও চলচ্চিত্র জগৎ সম্পূর্ণ দুঃসহ অবস্থায় ছিল। সে সময় যখন অসংখ্য থিয়েটার ও স্টুডিও বন্ধ, সিনেমা বানাতে একরকম যুদ্ধ করতে হচ্ছে, একজন প্রযোজক সেখানে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পান। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে শুধু যে তার পকেটে অর্থ এসেছে তা নয়, পুরো চলচ্চিত্র জগৎকে বদলে দিয়েছিলেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয়। ফ্লু’র বিস্তার রোধ করতে সর্বত্র মানুষকে নাক ও মুখ ঢেকে চলাফেরা করতে উৎসাহিত করা হয়। ব্যবসায়িক ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে সবাইকে বাধ্যতামূলক নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হতো। বাইরে বের হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে না চললে জরিমানাও করা হতো। মহামারীতে যখন একের পর এক এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমেরিকা ভেবেছিল এই মহামারী তাদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না। কিন্তু মহামারী তো আর এলাকা মেনে হয় না। সে দেশে যখন মহামারী প্রবেশ করে তখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি খারাপ বুঝতে পেরে ১৯১৮ সালে দ্য ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য মোশন পিকচার ইন্ডাস্ট্রি এক মাসের জন্য নতুন সব চলচ্চিত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিনোদনের সব স্থান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে খুব কষ্ট করে টিকে থাকা ৮৩টি মুভি থিয়েটারও ছিল। সে সময় স্টুডিওগুলো হয় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, নয়তো কাজ এতটাই কমে গিয়েছিল যে লোকরা চলচ্চিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক যে স্টুডিওগুলো ছিল সেগুলোতেও ১৯১৮ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বলার মতো কোনো কাজই হয়নি। তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও স্বতন্ত্র যে স্টুডিওগুলো নিজেদের মতো কাজ শুরু করেছিল, তারাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সে বছর ছিল ৩০ মিলিয়ন ডলার।

মহামারীর আগে

১৯১৮ সালে মহামারীর আগে, হলিউড চলচ্চিত্র জগৎ বর্তমান সময়ের চেয়ে একদম আলাদা ছিল। বিশেষ করে দর্শক অভিজ্ঞতা একদম আলাদা ছিল। ২০ শতকের শুরুর দিকে, মুভি থিয়েটারগুলোয় যেকোনো ধরনের চলচ্চিত্রই প্রদর্শিত হতো। নিয়মিত সিনেমা দেখেন এমন ব্যক্তিরা নতুন কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেই দেখতে যেতেন। ছোট জায়গা হোক অথবা বড়, সিনেমা দেখতে কোনো নিষেধ ছিল না। এমনকি ছোট নিকেলোডিওন থিয়েটারে (মোশন পিকচার দেখানো হতো এ ধরনের থিয়েটারে) যেখানে গাদাগাদি করে চেয়ার রাখা হতো, নির্বাক চলচ্চিত্রে শুধু পিয়ানো বাজানো হতো সেসব সিনেমাও দেখতে যেতেন তারা। বসার ধরনে ভিন্নতা থাকলেও চলচ্চিত্রের ব্যবসা সবখানেই এক রকম ছিল। বেশির ভাগ থিয়েটারই স্বাধীনভাবে চলত।

থিয়েটারের মালিক ছিলেন নারীরা। রঙিন দুনিয়া ভালোবাসতেন এমন মানুষরাই মূলত স্বাধীনভাবে স্টুডিও চালানোর ব্যবসা করতেন। চলচ্চিত্র বিতরণের কাজও তারা করতেন। হলিউডের বর্তমান যে বৈচিত্র্য, আগে এই বৈচিত্র্যের ধারাবাহিকতা ছিল আরও বেশি। তবে এই বৈচিত্র্য খুব বেশি দিন ছিল না। ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর চাপ, সঙ্গে অপারেটিং খরচ এবং অর্থলোভী প্রযোজকদের কিছু ষড়যন্ত্রের কারণে অপারেটররা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। এদিকে ক্রমাগত কাজের মান কমতে থাকায় পৌরসভার আদেশে এবং মহামারীর প্রভাবে ১৯১৮ সাল থেকেই চলচ্চিত্র জগতে নতুন এক সংগ্রামের শুরু হয়।

মুভি থিয়েটার

যখন হলিউডের স্টুডিও আর বিতরণকারীরা সব ধরনের বিধিনিষেধ থেকে নিজেদের মুক্ত করার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখন মুভি থিয়েটারগুলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছে। যেহেতু ইনফ্লুয়েঞ্জা ছোঁয়াচে রোগ ছিল, আর মুভি থিয়েটারগুলোয় অনেক মানুষ একসঙ্গে বসত, মুভি থিয়েটারগুলোকেই তাই সবার আগে টার্গেট করা হয়। অসংখ্য থিয়েটার বন্ধ হয়ে যায় এসব কারণে। অল্প কিছু জায়গায় থিয়েটার খোলা রাখা হয়েছিল। শুধু বেঁচে থাকার জন্য তাদের এসব থিয়েটার খুলে রাখতে হয়। কারণ তাদের আয়ের উৎস ছিল এটাই। অনেক থিয়েটারে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে, মাস্ক পরে চলচ্চিত্র দেখার ব্যবস্থা ছিল। সে সময় সবার জন্য হাঁচি ও কাশি ঠেকাতে রুমাল ব্যবহার করার নির্দেশ ছিল। যদি কেউ থিয়েটারে বসে জনসম্মুখে বসে হাঁচি বা কাশি দিতেন, তখন তাকে লজ্জা দেওয়ার জন্য চলচ্চিত্রের মাঝপথেই তার দিকে ক্যামেরার আলো ফেলে সøাইডের সাহায্যে প্রজেক্টরে তার চেহারা দেখানো হতো। এতে তিনি লজ্জা পেয়ে থিয়েটার থেকে বের হয়ে যেতেন।

অনেকের মতে, বর্তমানের কম্পিউটার ও স্মার্টফোন যেহেতু সে সময় ছিল না, মুভি থিয়েটারগুলো চাইলে সে সময় মানুষের মধ্যে মহামারীবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে পারত। এই আলোচনা শুরু হয়, যখন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন মুভি থিয়েটারগুলোয় নতুন চলচ্চিত্রের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা যদিও ১৯১৮ সালের শেষের দিকে মাত্র এক মাসের মতো স্থায়ী ছিল, তবু এতটা কঠিন সময়ে এমন সিদ্ধান্ত অনেককেই দুরবস্থার দিকে ঠেলে দেয়।

অ্যাডলফ জুকোর

মহামারীতে সবাই যখন দ্বিধা আর দুশ্চিন্তায় ভুগছে, ঠিক সে সময় অ্যাডলফ জুকোর নামে একজন ব্যক্তি হলিউডের এ সময়কে সুযোগ হিসেবে দেখলেন। সহজ ভাষায় বলা যায়, তিনি আসলে অনেক আগে থেকেই বেশ কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। স্প্যানিশ ফ্লু’র প্রকোপ শুরু হলে তিনি সুযোগকে কাজে লাগানো শুরু করেন।

জুকোর মূলত একজন প্রযোজক ছিলেন। তিনি তত দিনে আমেরিকান মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্বাধীনভাবে চলা স্টুডিওগুলো, বিতরণকারী ও মুভি থিয়েটারগুলোর গতানুগতিক ও কোনোরকমভাবে চলা নিয়ে তিনি অনেক আগে থেকেই কিছুটা বিরক্ত ছিলেন। যদি সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, তবে এ ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটিও চোখে পড়ার মতো ছিল। বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয় থাকার পরেও জুকোর এমন একটি ধারা তৈরি করেন, যার কারণে তিনি ও তার সহযোগীরা প্রচুর অর্থ আয় করেন।

জুকোরের পরিকল্পনা ছিল খুব সাধারণ। সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া। যেসব স্টুডিওতে চলচ্চিত্র তৈরি হয়, তাদের থেকে শুরু করে যাদের মাধ্যমে থিয়েটারগুলোয় সিনেমা পৌঁছায়, থিয়েটার থেকে তাদের কাছে আসে তাদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে সব কিছু এক ধারায় পরিচালনা করা। এসব কিছুর জন্য অবশ্য প্রয়োজন ছিল বেশ মোটা অঙ্কের অর্থের। জুকোরের অর্থ নিয়ে সে সময় কোনো চিন্তা ছিল না। তাই তাকে আর পেছনে ফিরেও তাকাতে হয়নি। মহামারীর সময় যেসব চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী কঠিন সময় পার করছিলেন, তাদের সবার সঙ্গে কাজ শুরু করেন জুকোর।

জুকোরের জন্ম ১৮৭৩ সালে, হাঙ্গেরিতে। সাত বছর বয়সেই বাবা-মাকে হারান তিনি। কিশোর জুকোর মেধাবী ছিলেন। চাচার সান্নিধ্যে থাকায় অল্প বয়সেই কিশোর জুকোর চাচা কালমান লিবারম্যানের মতো পণ্ডিত হয়ে ওঠেন। তবে তিনি চাচাকে জানিয়েছিলেন এভাবে পণ্ডিত হয়ে তিনি বেশি দিন থাকবেন না। ১৬ বছর বয়সে তিনি নিউ ইয়র্কে চলে আসেন। এখানে এসে তিনি নানা ধরনের কাজ করেন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ জমানো। অবশেষে নিজ অর্থে তিনি একটি পেনি আর্কেডের (অর্থ দিয়ে ছোট ছোট সিনেমা দেখার মেশিন, এ ধরনের মেশিনগুলো সাধারণত জনবহুল স্থানে থাকত) মালিক হন। নিকেলোডিওনস নামে শর্টফিল্মের প্রাথমিক রূপ ছিল এই আর্কেডগুলো। শুধু আর্কেডে নয়, ছোট চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে বড় চলচ্চিত্রগুলো কোথাও একসঙ্গে দেখানো গেলে অনেক মানুষ আসত বলে ভাবেন জুকোর। তখন জুকোর তার ব্যবসায়ী বন্ধুর সঙ্গে মিলে এক্সিবিশন হল চালু করার কথা ভাবেন। সেই হলগুলো ছিল শুরুর দিকের মুভি থিয়েটার। এই হলই তাকে নিয়ে যায় বিশ্বের থিয়েটার জগতে। হয়ে ওঠেন চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষ খেলোয়াড়। চলচ্চিত্র জগতে তার দক্ষতাই তাকে ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তোলে। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার তারকাখ্যাতি দিন দিন শুধু বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৩৫ সালে তিনি প্যারামাউন্ট স্টুডিওর চেয়ারম্যান হন। ১৯৪৮ সালে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

থিয়েটারের অগ্রযাত্রা

সবকিছু যখন নিজের পরিকল্পনামতো চলছিল, তখন জুকোর ভেবেছিলেন যেভাবে তিনি চাইবেন সেভাবেই হয়তো সব হবে। উদ্যোগী ও উদ্যমী জুকোর একটি পরিকল্পনা করলেন। পরিকল্পনা ছিল যত সম্ভব থিয়েটার কেনা। জুকোর ও তার সহযোগীরা ভেবেছিলেন এ কাজটি করা বোধ হয় বেশ সহজ হবে। কারণ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও এক রকম ঝুলে ছিল অনেক থিয়েটার। জুকোরের দেওয়া কম অর্থের প্রস্তাবেও অনেকে থিয়েটার বিক্রি করে দিতে রাজি ছিলেন। কিন্তু অনেক মালিক সম্পূর্ণভাবে এর বিরোধিতা করেন। যদিও জুকোর তার কাজ বন্ধ করেননি। যারা বিক্রি করেননি তারা দেখতে পেলেন তাদের কোনো রকমে টিকে থাকা থিয়েটারের ঠিক মুখোমুখি নতুন নতুন থিয়েটার ভবন হচ্ছে। জুকোর অন্য কোনো কৌশলের মধ্য দিয়ে আর যাননি। তবে তাকে নিয়ে বেশ বদনাম ছড়িয়েছিল। কুৎসা রটেছিল এমন, জুকোর চলচ্চিত্র বিতরণকারীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। কিছু জায়গায় অনেকের ওপর গায়েও হাত তোলা হয়েছে। একজন শক্তিশালী নির্মাতার কাছ থেকে লড়াই ছাড়া এ ধরনের অর্জন অবশ্য আশা করা যায় না। মহামারীতে অর্থনৈতিক চাপ যখন প্রবল, তখন জুকোরের থিয়েটার ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা বেশ জমে উঠেছিল।

বদলে যাওয়া হলিউড স্টুডিও সিস্টেম

সাধারণভাবে শুনলে মনে হয় আর্থিক অবস্থা ভালো থাকায় অ্যাডলফ জুকোর স্প্যানিশ ফ্লুতে নানা সুযোগ নিয়েছেন। আসলে পরিকল্পনা শুধু মহামারীকেন্দ্রিক ছিল না। তিনি আসলে হলিউড জগতে আরও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা শুরু করেছিলেন। সংগ্রাম করে টিকে আছে এমন থিয়েটারগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর স্টুডিও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনেন জুকোর।

স্টুডিও সিস্টেম তাকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিতে বেশি সাহায্য করে। প্রযুক্তিগত নানা সুবিধা দেওয়া শুরু হয় এসব স্টুডিও থেকেই। সেন্সরশিপ ও সৃজনশীলতার ওপর রাজত্ব শুরু হয় এ সময়। চিত্রনাট্যকারদের দিয়ে বিয়ে ও গ্যাংস্টার গল্পের সিনেমাগুলোয় বাধ্যতামূলকভাবে ভালোবাসার গল্প লেখানো হতো। পুরো হলিউড স্টুডিও সিস্টেমের জন্য জুকোর দায়ী না থাকলেও চলচ্চিত্র জগৎকে বদলে দেওয়ায় তার নিষ্ঠুর অবদান আছে বলে মানেন অনেকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে অভিনেত্রীদের ওপর অত্যাচারের এবং সৃজনশীল মানুষরা তার শেকলে বন্দি হয়ে যাওয়ার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত