আল্লাহতায়ালা বছরের কোনো কোনো মাস, দিন ও রাতকে ইবাদত-বন্দেগির জন্য বিশেষভাবে বরকতময় ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। এই বরকতময় সময়গুলোতে একনিষ্ঠভাবে অল্প ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়াসহ বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে বিশাল প্রতিদানের অধিকারী হওয়া সম্ভব, যা অন্য সময়ে অধিক মেহনত করেও অর্জন করা সম্ভব নয়। এমন বরকতময় সময়গুলোর মধ্যে পবিত্র রমজান মাস সর্বশ্রেষ্ঠ ও অন্যতম।
হজরত উবায়দা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের ফজিলত ও তার গুরুত্ব বর্ণনা প্রসঙ্গে আমাদের বলেন, রমজান বরকতের মাস। এ মাসে আল্লাহতায়ালা তোমাদের দিকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এবং তোমাদের ওপর খাস রহমত অবতীর্ণ করেন। তিনি তোমাদের গোনাসমূহ ক্ষমা করে দেন। তোমাদের দোয়া কবুল করেন। আর তাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে তোমরা নেক কাজ করার জন্য যে প্রতিযোগিতা করে থাক তিনি আনন্দের সঙ্গে তা দেখেন, আল্লাহ তার ফেরেশতাদের সঙ্গে তোমাদের বিষয়ে গৌরব করে থাকেন। ফেরেশতারা মানুষকে সৃষ্টি করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। তাই আল্লাহ মানুষের নেক কাজের প্রতিযোগিতা দেখিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গৌরব করেন। অতঃপর নবী করিম (সা.) বলেন, তোমরা সাধ্যমতো আল্লাহ পাককে নিজ নিজ নেকি দেখাও। জেনে রাখ, সে ব্যক্তি বড়ই হতভাগ্য, যে ব্যক্তি এ পবিত্র মাসে আল্লাহতায়ালার রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে। তারগিব
পবিত্র রমজান মাস খুবই ফজিলতপূর্ণ। এ মাসের যেকোনো ইবাদতের সওয়াব অন্য মাস অপেক্ষা ৭০ গুণ বেশি। এ মাসে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিম অবতীর্ণ করেছেন, যা মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক, আর এর মধ্যেই হক ও বাতিলের স্পষ্ট দলিল রয়েছে। রমজানের প্রতিটি নফল ইবাদতের মর্যাদা ফরজের সমতুল্য। এ মাসে আল্লাহতায়ালা উম্মতে মুহাম্মদির প্রতি রোজাকে ফরজ করেছেন। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও অতি উত্তম বলে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন।
হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘রোজা শুধু আমারই সন্তুষ্টির জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান প্রদান করব।’ শুধু কোরআন শরিফই এ মাসে অবতীর্ণ হয়নি বরং এর পূর্বের অন্যান্য আসমানি কিতাবসমূহ এ মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতকে রমজান মাসে এরূপ পাঁচটি খাস নেয়ামত দান করা হয়েছে, যা পূর্বের কোনো উম্মতকে দান করা হয়নি। ওই নেয়ামতগুলো হচ্ছে ১. রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহতায়ালার কাছে মেশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধি বলে বিবেচিত। ২. রোজাদারের জন্য পানির মাছ ও গর্তের পিপিলিকাসহ সব মাখলুকাত আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। ৩. রমজান মাসে প্রতিদিন নতুন নতুন সাজে বেহেশতকে সাজানো হয়, রোজাদার নেককার বান্দাদের জন্যে। ৪. রমজান মাসে শয়তানকে বন্দি করে রাখা হয়। যার কারণে এ মাসে পাপের মাত্রা কমে যায়। ৫. এ মাসের শেষ রাতে নেককার রোজাদার বান্দাদের দোজখ থেকে মুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়।
