করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ

রাঙ্গামাটিতে পিসিআর ল্যাবের সুফল মিলছে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩০ এএম

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগী ও মৃতের সংখ্যা। প্রতিদিনই করোনায় মৃত্যুবরণ করছেন প্রায় ১০০ মানুষ। কিন্তু সেখানে রাঙ্গামাটিতে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির এই সময়েও গত এক মাসে জেলায় ১২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ৩৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনাক্ত বিবেচনায় করোনা আক্রান্তের হার ১০ ভাগের কম, অথচ যেখানে অন্যান্য জেলায় এই হার ২৫ থেকে ২৭ ভাগ। গত এক মাসে জেলায় করোনায় মারা গেছে একজন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কারণে করোনা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়েছে। দ্রুত পরীক্ষার পর সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়ার কারণে দ্রুতই রোগ নিরূপণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিস থেকে দেওয়া গত এক মাসের করোনা পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৪ মার্চ রাঙ্গামাটিতে তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়। ওই দিন রাঙ্গামাটির পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা হয় ৪২ জনের। গত এক বছরে সেদিন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয় ১ হাজার ৩১৪ জনের। এর প্রায় এক মাস পর ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয় ১ হাজার ৪৩৯ জনের। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয় ১২৫ জনের। এই এক মাসে নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১ হাজার ৩৬২ জনের। অর্থাৎ গড়ে দিনে প্রায় ৪৫-৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

করোনার প্রথম ঢেউয়ে রাঙ্গামাটিতে মারা যায় ১৬ জন। আর গত এক মাসে করোনায় জেলায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। মূলত রাঙ্গামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পর দ্রুতই রোগীরা পরীক্ষার সুযোগ পায়। দ্রুত রোগ নিরূপণের কারণে করোনা ছড়ানোর সুযোগও কমে এসেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে দেশে করোনার ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও রাঙ্গামাটিতে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসন মোস্তফা কামাল বলেন, আগে রাঙ্গামাটি থেকে চট্টগ্রামে নমুনা পাঠানো হলে সে ফল পেতে আমাদের ৭-১০ দিন সময় লেগে যেত। কিন্তু বর্তমানে সেই অসুবিধা আর নেই। পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পর সকালে কিংবা দুপুরে নমুনা সংগ্রহের পর বিকেলেই আমরা রেজাল্ট দিয়ে দিচ্ছি। এতে দ্রুত রোগ নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত রোগ নিরূপণের সুযোগ হওয়ায় রোগ ছড়ানোর সুযোগও কমে এসেছে। পাশাপাশি এই জেলার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় রাঙ্গামাটিতে করোনা সংক্রমণ মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত