ছয় বছর আগে মা-বাবার অমতে প্রতিবেশী সোলাইমান হাওলাদারকে (৩৩) ভালোবেসে বিয়ে করেন বরিশালের গৌরনদী এলাকার মনি আক্তার (২২)। এরপর রাজধানীর রূপনগর এলাকায় ইস্টার্ন হাউজিংয়ের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে এ দম্পতি। বছরখানেক আগে শ্বশুরবাড়ির (মনির পরিবার) সঙ্গে মনোমালিন্য দূর হয় সোলাইমানের। মনির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সবকিছু ঠিকঠাক চললেও হঠাৎ করেই তাদের কাছে যৌতুক চেয়ে বসে সোলাইমান। এমনকি যৌতুক চেয়ে না পেয়ে মনিকে মারধর শুরু করে সে। এরই মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল রাতে মোবাইল ফোনে মনির মৃত্যুর খবর জানায় সোলাইমান। সে জানায়, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে মনি। তবে মনির স্বজনদের দাবি, যৌতুক চেয়ে না পেয়ে মনিকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজায় সোলাইমান। ঘটনার পর ডিএমপির রূপনগর থানায় গেলে হত্যা মামলা না নিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা নেয় পুলিশ।
স্বজনরা আরও জানান, সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর তাদের সম্পদের দিকে নজর পরে সোলাইমানের। সাত মাস আগে স্ত্রীকে দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে একটি স্বর্ণের চেইন দাবি করে সোলাইমান। সেই চেইন পাওয়ার পর তার চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ মাস ধরে ব্যবসা করার জন্য মনিকে বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে সোলাইমান। কিন্তু মনির পরিবার টাকা না দেওয়ায় মাঝেমধ্যেই মনিকে মারধর করত সোলাইমান। গত ১৯ এপ্রিল রাতে রূপনগরের ওই বাসা থেকে মনি আক্তারের লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় সোলাইমান। এরপর মনির পরিবারের লোকদের খবর দেয় সে।
মনির ভাই মো. শাহজাহান হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বোনের সুখের কথা চিন্তা করে তাকে দেড় ভরি ওজনের একটি চেইন দেওয়া হয়। এরই মধ্যে পাঁচ মাস আগে মনির মাধ্যমে আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে সোলাইমান। কিন্তু আমরা টাকা দেব না বলে জানিয়ে দেই। এজন্য মনিকে প্রায়ই মারধর করত সে। এ নিয়ে সোলাইমানের বাবাও একবার অনেক মারধর করে মনিকে। ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমাদেরকে ফোনে মনির মৃত্যুর সংবাদ জানায় সোলাইমান। পরে ঢাকায় আসি আমরা। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন দেখে হত্যা মামলা করতে চাই। থানার মুন্সি সেভাবেই মামলার অভিযোগপত্র টাইপ করেন। কিন্তু ওসির রুমে অভিযোগপত্রের কপি নিয়ে গেলে অপমৃত্যু মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তবে আমরা আদালতে হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। লকডাউনের পর আদালত খুললেই মামলাটি করব।’
অভিযোগের বিষয়ে রূপনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সম্পূর্ণ রং (ভুল) তথ্য দিয়েছে তারা। তাদের কোনো অভিযোগ সত্য নয়। আমি ওনাদের (মনির পরিবার) বলেছি আপনারা যেভাবে বলবেন সেভাবেই মামলা হবে। ওনারা যেভাবে বলেছেন সেভাবেই মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে মনির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গলায় ফাঁসির দাগ, গলার বাম পাশে নখের আঁচড়ের দাগ, ডান হাতের আগুলের গোড়ায় আঘাতের চিহ্ন, বাম হাতের বাহুতে আঘাতের কালো চিহ্ন, বাম হাতের তালু কালো।
মনির স্বামী সোলাইমান হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার সময় শুধু আমি আর মনি বাসায় ছিলাম। বাসার একটি রুমে সে আত্মহত্যা করে।’
