চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

শতকোটি টাকার সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে বরাদ্দ!

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৫৫ এএম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) শতকোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১২ হাজার বর্গফুটের পৃথক ১০টি খালি জায়গা বরাদ্দে (সেলামি ও মাসিক ভাড়া) অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী সম্প্রতি খালি জায়গার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।

এরপর গত ২৫ এপ্রিল চসিকের বর্তমান পর্ষদের ভার্চুয়াল সাধারণ সভায় সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের মেয়াদকালে এসব জায়গা বরাদ্দে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, সন্ত্রাসীদের দখল থেকে উদ্ধার করে ১০টি জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের সব নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখানে বিন্দুমাত্র অনিয়ম হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চসিকের বরাদ্দ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্র্তৃপক্ষ ১০টি খালি জায়গা বরাদ্দ ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এর পাঁচটি জায়গা গত বছর ২২ ডিসেম্বর এবং বাকি পাঁচটি চলতি বছর ২৮ জানুয়ারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে নগরীর পোর্ট কানেকটিং রোডের চৌরাস্তার উত্তর-পূর্ব পাশে ৬০০ বর্গফুট খালি জায়গা বরাদ্দ পেয়েছেন মীর আহমদ। এজন্য চসিক কর্র্তৃপক্ষ এককালীন ৬ লাখ টাকা পেয়েছে।

নগরীর ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস ভবনের উত্তর ও পশ্চিম পাশে ১ হাজার ৭৫৭ বর্গফুট খালি জায়গা প্রতি বর্গফুট মাসিক ১০ টাকা ভাড়ায় সমীর মহাজন লিটনকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে চসিক। নগরীর বিআরটিসি মার্কেটসংলগ্ন ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে ২৮৯ বর্গফুটের সেমিপাকা ভবন প্রতি বর্গফুট মাসিক সাড়ে ৯ টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ পেয়েছেন আকতার হোসেন।

একইভাবে মাদারবাড়ী অ্যাপার্টমেন্টসংলগ্ন ২০০ বর্গফুট একতলা ভবনের প্রতি বর্গফুট সাড়ে ৩ টাকা মাসিক ভাড়ায় জুনায়েদ আহমদ চৌধুরী, নগরীর ঝুমুর সিনেমা হলের উত্তর পাশে জয় পাহাড় মৌজায় ৫৪০ বর্গফুট জায়গা প্রতি বর্গফুট মাসিক ৫ টাকা ভাড়ায় রাবেয়া বেগম, ইউনুছ মিয়া মেটারনিটিসংলগ্ন ১ হাজার ৬৪ বর্গফুট জায়গা প্রতি বর্গফুট মাসিক ৫ টাকা ভাড়ায় খলিলুর রহমান নাহিদ, কেসি দে রোড গণশৌচাগারের পশ্চিম পাশে পরিত্যক্ত ৩৭৬ বর্গফুট জায়গা প্রতি বর্গফুট ১০ টাকা মাসিক ভাড়ায় জানে আলম, মাদারবাড়ী ওয়ার্ড অফিসসংলগ্ন ৬ হাজার ৫৩৪ বর্গফুট খালি জায়গা প্রতি বর্গফুট ১ টাকা ৮০ পয়সা মাসিক ভাড়ায় খলিলুর রহমান নাহিদকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শাহ আমানত মার্কেটের সিঁড়ির উত্তর পাশে বারান্দায় ১৫৩ বর্গফুট খালি জায়গা মাসিক ২ হাজার ২৯৫ টাকা এবং শাহ আমানত মার্কেটের সামনে আইএফসি ব্যাংকের বারান্দার প্রথম তলার ছাদের ওপর ৩৯০ ফুট জায়গা মাসিক ৫ হাজার ৮৫০ টাকা ভাড়ায় মো. শাহাজাহান চৌধুরীকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খালি জায়গাগুলো ব্যবহার করে আমরা চসিকের আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে বরাদ্দকৃত জায়গাগুলোর বর্তমান অবস্থান জানতে বর্তমান পর্ষদের সাধারণ সভায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটি গঠনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কার আমলে কী হয়েছে, তা আমার জানার বিষয় নয়। আমি করপোরেশনের আয় বাড়াতে চাই। বরাদ্দের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি কোনো ব্যত্যয় বা অনিয়ম পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘চসিকের সাধারণ সভার রেজল্যুশন এখনো স্বাক্ষর হয়নি। সই হওয়ার পর মেয়রের নির্দেশনা অনুসারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে খোরশেদ আলম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ১৮০ দিনের জন্য প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি মানসম্পন্ন পরিচ্ছন্ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে দিনরাত কাজ করেছি। যে ১০টি জায়গা বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তা সন্ত্রাসীদের দখলে ছিল। সিটি করপোরেশন কানাকড়ি রাজস্ব পেত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এসব জায়গা উদ্ধার করে করপোরেশনের রাজস্ব বাড়িয়েছি। জায়গাগুলো বরাদ্দের ক্ষেত্রে সব নিয়ম মানা হয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতাই বরাদ্দ পেয়েছেন। এখানে বিন্দুমাত্র অনিয়ম হয়নি। এরপরও বর্তমান নেতৃত্ব বরাদ্দে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে মনে করে তদন্ত করলে আমি স্বাগত জানাব। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত