৩৮ দেশে ফ্লাইট চালু

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ০২:৩৬ এএম

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ফ্লাইট বন্ধ ছিল। এরপর গত শুক্রবার রাত ১২টার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট শুরু হয়েছে। আগের সূচিতে সামান্য হেরফের করে আপাতত ৩৮টি দেশে এসব ফ্লাইট চলাচল করছে।

এখনো ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১২টি দেশে ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। বাবল এয়ারের ফ্লাইটগুলোও স্থগিত রয়েছে। আর ২৬টি দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব দেশ থেকে কেউ এলে তাদের কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলেও সবাইকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে ফ্লাইট বাতিল করা হবে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে এভিয়েশন খাতকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিষিদ্ধ তালিকার দেশে কোনো বাংলাদেশি আটকা পড়লে, তাকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।’

সরেজমিন গত দুদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ আরোপের আগের কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, তালিকায় অতিঝুঁকি ও ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশ হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, সাইপ্রাস, জর্জিয়া, ভারত, ইরান, মঙ্গোলিয়া, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তিউনিশিয়া। এসব দেশ থেকে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকরা ঢাকা আসতে পারবেন। এসব দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা আপাতত ফেরার সুযোগ পাবেন না। অতিঝুঁকি ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ দুই তালিকার বাইরের দেশগুলো থেকে আসাদের করোনা নেগেটিভ সনদসাপেক্ষে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ২৬টি দেশ হলো অস্ট্রিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলজিয়াম, চিলি, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইরাক, কুয়েত, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়েনিয়া, নেদারল্যান্ডস, প্যারাগুয়ে, পেরু, কাতার, সেøাভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও উরুগুয়ে। তবে এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত থেকে আসাদের তিন দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

পুরনো ছন্দে এভিয়েশন : আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি জমে উঠেছে অভ্যন্তরীণ রুট। করোনার কারণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফ্লাইট চলাচল করায় পুরনো ছন্দ ফিরে পাচ্ছে দেশীয় এভিয়েশন খাত। প্রতিদিনই বাড়ছে ফ্লাইট। উড়োজাহাজ সংকটে বিমান অভ্যন্তীণ রুটে ফ্লাইট না চালালে বেসরকারি ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার প্রতিদিন ভালো সংখ্যক যাত্রী পাচ্ছেন।

গতকাল শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষকে অলস বসে থাকতে হচ্ছে না। সদ্য পদোন্নতি পাওয়া আর্মড ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুক্রবার থেকে ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এরপর থেকে কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে পেয়েছে শাহজালাল। প্রায় এক মাস অন্যদের মতো আমরাও অলস সময় পার করছিলাম। কিন্তু ফ্লাইট চালুর পর শাহজালালে যাত্রীর চাপ বেড়েছে।’

কাস্টমসের কয়েকজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত এক বছর এভিয়েশন খাত লোকসানের দিকে যাচ্ছিল। মাঝখানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবকিছু থমকে যায়। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ফ্লাইট চালু হওয়ায় আমাদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতেও এ ব্যস্ততা থাকবে।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘কঠোর বিধিনিষেধের’ মধ্যে বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা উড়োজাহাজে একসঙ্গে কত যাত্রী পরিবহন করা যাবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যম আকার বা ন্যারো বডি উড়োজাহাজে যাত্রী ধারণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সুপরিসর বা ওয়াইড বডি উড়োজাহাজে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২৮০ যাত্রী পরিবহন করা যাবে। তবে বোয়িং ট্রিপল সেভেন বা সেভেন ফোর সেভেন উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ৩৫০ জন। ঢাকামুখী মধ্যম আকার বা ন্যারো বডি উড়োজাহাজে পরিবহন করা যাবে সর্বোচ্চ ১৪০ যাত্রী। সুপরিসর বা ওয়াইড বডি উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০০ জন। দুই ক্ষেত্রেই মধ্যম আকার বা ন্যারো বডি ও সুপরিসর বা ওয়াইড বডি উড়োজাহাজের ইকোনমি ক্লাসের শেষ সারি এবং বিজনেস ক্লাসে একটি আসন সম্ভাব্য করোনা যাত্রীর জন্য বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় শুরুতে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ হলে বন্ধ হয়ে যায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। এরপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে গত ১৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ থাকে আন্তর্জাতিক সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট। তবে চিকিৎসা, পণ্যবাহী ও বিশেষ ফ্লাইটকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়। অবশ্য পরে প্রবাসী কর্মীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আটটি দেশে শতাধিক বিশেষ ফ্লাইট অনুমোদন দেয় সরকার। আর ২১ এপ্রিল থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের অনুমতি দেয় বেবিচক। এরপর শুক্রবার থেকে আন্তর্জাতিক রুটেও অনুমোদন দেওয়ায় উভয় রুটে ব্যস্ততা বেড়েছে।

কাল থেকে কুয়ালালামপুরে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট : বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুদিন এ রুটে ফ্লাইট চলবে। প্রতি মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে এ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ২টায় কুয়ালালামপুরে অবতরণ করবে। পুনরায় বুধ ও শুক্রবার রাত ৩টায় কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ভোর ৫টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

থাইল্যান্ড থেকে ফিরলেন ৭৮ জন : করোনাভাইরাসের কারণে থাইল্যান্ডে আটকেপড়া বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের মোট ৭৮ জনকে ঢাকায় আনা হয়েছে।

বেবিচক জানায়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশটি থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (বিজি-৪৮০৯) গত শনিবার সকালে ৭৮ জন বাংলাদেশে এসেছেন।

বিশেষ ফ্লাইটে এসব যাত্রীকে বাংলাদেশে আসার সুযোগ দেওয়ায় থাই সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবদুল হাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত