করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিবহন মালিকদের ব্যাংক থেকে বিনাসুদে ঋণ প্রদান ও কিস্তির সুদ মওকুফ ও গণপরিবহন চালুর অনুমতি প্রদানসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ। তাদের দাবি, দুই সিটে একজন যাত্রী পরিবহন করে গণপরিবহন চালু থাকলেও নিজেদের অস্তিত্ব বজায় থাকবে। অন্যথায় খুব বেকায়দায় পড়ে যাচ্ছেন তারা। গতকাল রবিবার নগরীর স্টেশন রোডে আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে গণপরিবহন কয়েকবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু লকডাউনে যখন গণপরিবহন চালানোর নিষেধাজ্ঞা থাকে তখনো পরিবহনের প্রাতিষ্ঠানিক খরচ বন্ধ থাকে না। বিভিন্ন পরিবহন সার্ভিসের প্রধান ও শাখা কার্যালয়ের অফিস ভাড়া, স্টাফদের বেতন ইত্যাদি মালিকদের বহন করতে হয়। পরিবহন শ্রমিকরাও হয়ে পড়ে বেকার। বৃহত্তর চট্টগ্রামে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন মিলে কমপক্ষে এক লাখ শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন ৫০০ টাকা বেতন ধরলেও দৈনিক ৫ কোটি টাকার আয় থেকে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই সিটে এক যাত্রী এবং ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়ায় যখন গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় তখনো মালিকদের দুই ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তারপরও গণপরিবহন চালু থাকলে কোনোরকমে অস্তিত্ব বজায় রাখা যায়।’
সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঠিক করতে হবে দেশে পরিবহন সার্ভিসের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন থেকে আরও জানানো হয়, দেশে পরিবহন খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে বিনাসুদে সড়ক পরিবহন মালিকদের ঋণ প্রদান করতে হবে, করোনাকালীন সময়ে এক বছরের জন্য ব্যাংক ঋণ ও কিস্তির সুদ মওকুফ করে দিতে হবে, কিস্তির টাকার জন্য হয়রানি ও মামলা প্রদান বন্ধ করতে হবে, করোনা মহামারী সমাপ্তি হওয়া পর্যন্ত ডকুমেন্ট হালনাগাদ করার সময় বৃদ্ধি করতে হবে এবং সব পরিবহন শ্রমিকদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মো. মূছা, সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
