মন্ত্রিসভা বৈঠক

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হার কমেছে ১৬ শতাংশ

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ০৪:০৮ এএম

মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে বাংলাদেশে গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন আইন, টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস (সংশোধিত) অ্যাক্ট, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২১-এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার কমে গেছে ১৬ শতাংশ। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার কমেছে ১৬ শতাংশ : চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার গত বছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে। গত বছর একই সময়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এবার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গ্যাস-তেল-খনিজসম্পদ করপোরেশন আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন : বাংলাদেশে গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন আইন, ২০২১-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে ১৯৭৬ ও ১৯৮৬ সালের দুটি অর্ডিন্যান্স ছিল। দুটোই সামরিক আইনের সময় জারি হওয়ায় আদালতের নির্দেশনার আলোকে সেগুলোকে পরিবর্তন করা হচ্ছে। করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন থাকবে ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু পরিশোধিত মূলধন হবে ২০০ কোটি টাকা। তিনি আরও জানান, করপোরেশনের কাজ হবে গ্যাস, তেল বা খনিজসম্পদ বিষয়ে গবেষণা করা। কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোম্পানি গঠন করতে হবে।

অনুমতি বাদে বিদেশি জাহাজ প্রবেশ করলে দেশি আইনেই বিচার : বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের ওপর বাংলাদেশের মানুষের সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের জন্য ‘টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস (সংশোধিত) অ্যাক্ট, ২০২১’ শীর্ষক সমুদ্র আইনের খসড়া মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এতে আইনে ৩৫টি ধারা সংশোধন করে সমুদ্র আইনকে আধুনিক করা হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এখন থেকে অনুমতি ছাড়া বিদেশি জাহাজ প্রবেশ করলে দেশি আইনেই বিচার হবে, সমুদ্রদূষণের জন্য জরিমানা গুনতে হবে, জাহাজে চুরির ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া আরও সহজ হবে। সংশোধিত আইনে সমুদ্র শাসন, সমুদ্র অর্থনীতি, কন্টিজিয়াস জোন নির্দেশনামূলক বিধিবিধান সংযোজিত হয়েছে। সামুদ্রিক দূষণের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদ- শাস্তির বিধান ছিল, যা সংশোধিত আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদ- অথবা সর্বনিম্ন ২ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতদিন চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে যেসব চুরি সংঘটিত হতো তা জলদস্যুতার ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ হতো। সংশোধিত আইনে জলদস্যুতার সুস্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদানপূর্বক এসব অপরাধ সংক্রান্ত বিধিবিধান সংযোজন করা হয়েছে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন : বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২১-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার।

সচিব বলেন, প্রত্যেকটি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় মেডিকেল কলেজের নামে দুই একর, ডেন্টাল কলেজের নামে এক একর এবং অন্যান্য এলাকায় মেডিকেল কলেজের জন্য চার একর ও ডেন্টাল কলেজের জন্য দুই একর জমি থাকতে হবে। মেডিকেল কলেজের নামে তফসিলি ব্যাংকে ৩ কোটি টাকা এবং ডেন্টাল কলেজের নামে ২ কোটি টাকা সংরক্ষিত তহবিল হিসেবে জমা থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের জন্য কমপক্ষে এক লাখ বর্গফুট, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য আরও এক লাখ বর্গফুট কনস্ট্রাকশন সুবিধা থাকতে হবে। আর ডেন্টাল হাসপাতালের জন্য ৫০ হাজার বর্গফুট থাকতে হবে। পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। অ্যাকাডেমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রত্যেক বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজকে কোনো একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ থাকতে হবে।

সচিব আরও বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুপাত হতে হবে ১:১০। মেডিকেল বর্জ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে নষ্ট করতে হবে। কেউ আইন না মানলে দুই বছরের কারাদ-, ১০ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত