অক্সিজেন সাপোর্টে খালেদা জিয়া বিদেশ নেওয়াটা গুঞ্জনই

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ০৬:৩৭ এএম

শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। করোনা পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে কলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে এখনো সরকারের কাছে আবেদন জানাইনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার পরিবারের এক স্বজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে বিদেশে নেওয়ার জন্য কোনো আবেদন তারা সরকারের কাছে দেননি। এরপরও আবেদন করলে সরকার অনুমতি দেবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া ওনার করোনার রেজাল্ট এখনো নেগেটিভ আসেনি। এ অবস্থায় সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড কিংবা যুক্তরাজ্যে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশ অনুমতি দেবে না বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাছাড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করোনা রোগী বহন করবে না। এছাড়া গতকাল সারা দিনই খালেদা জিয়াকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসন সিসিইউতে আছেন। তাকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

গত সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বিএনপির মহাসচিব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে আলাপ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের অন্যদের সঙ্গে আলাপ করে পরে জানানো হবে।

দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তার একটি ছিলÑ দেশেই চিকিৎসা নিতে হবে। তবে গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসিকে বলছেন, ‘সরকার শর্তটি শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। এটা নির্ভর করছে একেবারেই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। কিন্তু এখনো তারা বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এরকম কোনো আবেদন পাননি।’

আবেদনের বিষয়ে খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিমা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগে যে আবেদন করা হয়েছিল তাতে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।

বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা মহামারীর কারণে এখন সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সরকার করোনা রোগীদের প্রবেশের অনুমতি দেবে না। তাই বিষয়টা জটিল। তাছাড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করোনা রোগীদের বহন করবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’

খালেদা জিয়ার পরিবারের ঐ সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিতে চাইলে অপশন তিনটি। এক. সিঙ্গাপুর দ্বিতীয় থাইল্যান্ড ।  কিন্তু এই দুদেশে কভিড রোগীর অনুমতি নেই। তৃতীয় দেশ যুক্তরাজ্য। সেখানেও একই সমস্যা কভিড রোগীদের জন্য।’

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মেডিকেল বোর্ড বসেছে। তারা বসে আলোচনার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’  তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে।’

এদিকে রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ডা. জাহিদ বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আজকে উনার (খালেদা জিয়া) যে সকল পরীক্ষা গত সোমবার করানো হয়েছিল এবং গতকাল সকালে করানো হয়েছেÑসেগুলো রিভিউ করেছেন। উনারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার চেস্ট দেখেছেন। কিছু পরিমাণ ট্রিটমেন্ট কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট করেছেন এবং সেই অনুযায়ী উনার চিকিৎসা চলছে। আমি কিছুক্ষণ আগেও উনাকে দেখে এসেছি। একজন সিসিইউর রোগীর সঙ্গে তো সামনে যেয়ে কথা বলা যায় না, দূর থেকে দেখতে হয়। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে উনি গত সোমবার যে অবস্থায় ছিলেন এখন উনি সেই অবস্থাতে আছেন। উনার চিকিৎসা চলছে।’

দেশবাসীর কাছে বিএনপি চেয়ারপারসনের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে গত সোমবার সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে বিকালে খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। গত ২৭ এপ্রিল গুলশানের ওই হাসপাতালে ভর্তির পরদিনই তার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই মেডিকেল বোর্ডে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. মোহাম্মদ আল মামুন রয়েছেন। গত ১১ এপ্রিল করা টেস্টে খালেদা জিয়ার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে। এরপর ২৫ এপ্রিল আবারও রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গত ২৭ এপ্রিল তার সিটি স্ক্যান করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত