সিদ্ধিরগঞ্জে অপহরণের এগারো দিন পর মো. রিয়াদ (৭) নামে মাদ্রাসা ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার অভিযোগে নিহতের চাচাতো খালু সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার ভোর সোয়া পাঁচটায় জালকুড়ি মাতবর বাজার এলাকার পরিত্যক্ত একটি ডোবার ঘাসের নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের রিয়াদ গাইবান্ধার সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের পূর্ব কমলয় মিয়াপাড়া গ্রামের মো. রাজু মিয়ার ছেলে। সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া পূর্ব মুনলাইট রেললাইন এলাকার করিম মিস্ত্রির বাড়ির ভাড়াটিয়া। রিয়াদ চরশিমুল পাড়া এলাকায় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। সে তার মা-বাবার ছোট ছেলে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সুজনের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে রিয়াদকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শওকত জামিল জানান, গত মাসের ২৪ তারিখ সন্ধ্যায় পূর্ব মুনলাইট এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় রিয়াদ। তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ২৮ তারিখে তার পিতা থানায় জিডি করেন। এরই মাঝে ছেলেকে ফিরে পেতে হলে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে একটি নম্বর থেকে রিয়াদের বাবার মোবাইলে ফোন আসে। পরে সেই মোবাইলের কলের সূত্র ধরে তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে অপহরণকারীকে শনাক্ত করে সুজনকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সুজন স্বীকার করে অপহরণের পর ওই দিন রাতেই রিয়াদকে মেরে লাশ ডোবায় ঘাসের নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে তার দেখানো স্থান থেকে বুধবার ভোরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানায়, শিশু রিয়াদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ হত্যার সঙ্গে আরও একজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
