শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডব

তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়া হবে অভিযোগপত্র : ডিবি

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০২:৪৮ এএম

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের মামলাগুলোয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আবারও এ ধরনের ঘটনার চেষ্টা হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার এসব কথা বলেন।

২০১৩ সালের ওই ঘটনায় মোট ৬২টি মামলা হলেও দীর্ঘ ৮ বছরে একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের অভাবে ঝুলে আছে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল।

এ বিষয়ে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগলেও জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আবার নিরপরাধ কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে না। এ জন্যই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগছে। ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ ও গ্রেপ্তারদের জবানবন্দির ভিত্তিতে বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

শাপলা চত্বরের মতো ঘটনার পরিকল্পনা বা সক্ষমতা এখনো হেফাজতের রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাজ দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা। এজন্য যা যা করা দরকার, তা আমরা করব। আমরা চাই না ফের শাপলা চত্বরের মতো ঘটনা ঘটুক। তবে কেউ যদি তাণ্ডব চালায়, জনগণের সম্পদ বিনষ্ট করে কিংবা পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের অর্থায়নের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নে ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তে যার নাম আসবে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে ব্যাপক নাশকতা হয়। সেটাকে পুঁজি করে গুজব ছড়িয়ে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, সিলেটসহ বেশ কয়েকটি জেলায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে এতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচির নামে হেফাজতের নেতাকর্মীরা ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এরই জের ধরে পরদিনও চট্টগ্রামের হাটহাজারী, নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় শুধু ঢাকাতে ৫৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে মাত্র চারটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৯ মামলার মধ্যে ৩৪টি পুলিশ এবং ১৫টি মামলা তদন্ত করছে ডিবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত