বরগুনায় নিজ কার্যালয়ের সামনে ঠিকাদারের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক প্রকৌশলী। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় ঠিকাদার ফরহাদ জমাদ্দার তাকে মারধর করেন। তবে ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
মারধরের শিকার মো. মিজানুর রহমান এলজিইডির বরগুনা সদর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে বসা ছিলেন প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। এ সময় বরগুনার আমতলার পাড় এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদার ফরহাদ জমাদ্দার সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রকৌশলী মিজানুরকে ‘ঘুষখোর’ বলে গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় প্রকৌশলী মিজান প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার ফরহাদ মোটরসাইকেলে লাথি ও ধাক্কা দিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর মিজানুর রহমান উঠে দাঁড়ালে ফরহাদ জমাদ্দার তাকে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ঘটনাস্থলে সদর উপজেলা পরিষদের ও উপজেলা এলজিইডির কর্মচারীরাসহ সদর উপজেলার বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আহমদ সোহাগ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদে আমাদের একটি মিটিং ছিল। মিটিং শেষ করে ভবন থেকে নামার সময় আমরা দেখি মারামারি করছেন তারা (প্রকৌশলী মিজানুর ও ঠিকাদার ফরহাদ)। আমিসহ সেখানে বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলাম। পরে আমরা পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে কী নিয়ে ঘটনা ঘটেছে, তা আমার জানা নেই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার মো. ফরহাদ জমাদ্দার গতকাল শুক্রবার সকালে মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকৌশলী মিজানুর রহমান একজন অসৎ কর্মকর্তা। ঘুষ ছাড়া তার কলম চলে না। ঘুষের জন্য তিনি আমার জামানতের টাকা আটকে রেখেছেন। বরগুনার অনেক ঠিকাদারের টাকা তিনি আটকে রেখেছেন আবার অনেকে ঘুষ দিয়ে জামানতের টাকা পেয়েছেন। আমি ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার কাজ করবেন না। এ জন্য আমি তাকে মেরেছি। পরে আবার তার পা ধরে মাফ চেয়েছি।’
ফরহাদ জমাদ্দারের দাবি, ঘুষ-বাণিজ্যের মাধ্যমে বরগুনার আমতলার পাড় এলাকায় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এর বাইরেও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে এই প্রকৌশলী অঢেল সম্পত্তি গড়েছেন।
আর মারধরের শিকার প্রকৌশলী মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফরহাদ জমাদ্দার তার এলাকার বড় ভাই। কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ বিষয়ে কোথাও অভিযোগ করবেন না বলেও জানান।
প্রকৌশলীকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এ প্রসঙ্গে বরগুনা সদর থানার ওসি কে এম তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনা আমি অবগত নই। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
