সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে হাসপাতাল কর্মীদের পোর্ট্রটে আঁকার ভাবনা ছিল শিল্পী টম ক্রফটের মনে। নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ঘোষণা দিলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে শিল্পীরা সাড়া দেন। সেই পোর্ট্রটে নিয়ে গত ৬ মে থেকে লন্ডনে রয়েল সোসাইটি অব পোর্ট্রটে পেইন্টারস শুরু করেছে ভিন্ন রকম এক প্রদর্শনীর আয়োজন। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। এর তিনটি শাখা রয়েছে। এনএইচএস ইংল্যান্ড, এনএইচএস স্কটল্যান্ড ও এনএইচএস ওয়েলস। ২০২০ সালে, এনএইচএস কভিড-১৯ প্রতিরোধে চিকিৎসা পরামর্শ জারি করে। মহামারী রোধে এনএইচএস তার ১-১-১ সার্ভিস লাইনে সমন্বিত কভিড আইডি প্রতিষ্ঠা করে। তাতেও কুলাতে না পারলে ২০২০ সালের মার্চ মাসে এনএইচএসকে ঢেলে সাজাতে বাধ্য হয় কর্র্তৃপক্ষ। সে সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সব কর্মী, শেষ বর্ষে থাকা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কাজে নিয়োগ করা হয়। এতে সাড়া দিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি সাবেক কর্মী বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় এনএইচএসে পুনরায় যোগদান করেন। কিন্তু কভিডের একের পর এক ঢেউয়ে ও নতুন ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন কর্মীরা। তাতেও ভেঙে না পড়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন তারা। ফলে শিল্পী ও সাধারণ মানুষদের চোখে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে স্মরণ করা শুরু করে সবাই। কেউ হয়তো গান গেয়ে, কেউ ছবি এঁকে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে থাকেন। এখানে বাদ থাকেননি কেউই। স্বাস্থ্যকর্মীরা হয়ে ওঠেন জাতীয় বীর।
শ্রদ্ধা জানানোর উপায় যখন রংতুলি
ভিন্ন ভিন্ন পেশায় থাকা প্রত্যেকটি মানুষের ভালোবাসা জানানোর ভাষা ও পদ্ধতি ভিন্ন। একটি পরিস্থিতিতে ডাক্তার যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বেন, শিল্পী সেভাবে কাজ করতে সক্ষম নন। আবার শিল্পী তার তুলিতে আঁকছেন সামগ্রিক বাস্তবতা অনেকে সেভাবে ভাবতে সক্ষম নন। পৃথিবী জুড়ে মানুষের ভাষা আলাদা, কাজ আলাদা কিন্তু রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে অনুভূতি আলাদা নয়। পৃথিবী জুড়ে যতবার মানুষ একত্রিত হয়েছে তার বেশিরভাগই অনুভূতির জোরে।
বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ এর ছোবলে সবাই বিপর্যস্ত। ক্রমাগত মৃত্যুর মিছিল দেখতে দেখতে সবাই যেন ক্লান্ত। একের পর এক ভ্যারিয়েন্ট আর লকডাউনে ক্লান্তিকর সময় কাটছে সবার। সেই লকডাউনে থাকতে থাকতেই একজন পোর্ট্রটে শিল্পী টম ক্রফটের ভাবনায় এলো কেমন হয় যদি সম্মুখযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যায়? ভিন্ন রকম উপায় খুঁজে বের করতেই ভাবনা অনুযায়ী একটি ফেইসবুক পোস্ট দিয়ে ফেললেন তিনি। সেই পোস্টে অভাবনীয় সাড়া পেলেন। টম ক্রফট শুধু নিজে কাজ করবেন ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি। শিল্পীদের মধ্যে তার ভাবনা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। পরিচিত শিল্পীদেরও উদ্বুদ্ধ করেছেন একই পথে হাঁটতে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে শিল্পীরা টমের আবেদনে সাড়া দেন।
বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত মানুষের পোর্ট্রটে এঁকে থাকি। বছরের পর বছর ধরে আমি রাজনীতিবিদ, ফুটবল খেলোয়াড়, টিভি আর্ট সমালোচকদের ছবি এঁকে গিয়েছি। লকডাউন শুরু হলে আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না কীসের ওপরে ফোকাস করব, আমার পোর্ট্রেটে কারা আসলে গুরুত্ব পাবে, করোনার এই গুরুতর মুহূর্তে কারা আসলে উদযাপনের দাবি রাখে। অনেক ভেবে দেখলাম একমাত্র হাসপাতালের সম্মুখযোদ্ধারাই এর দাবিদার। সেই ভাবনা থেকে ফেইসবুকে একটি পোস্ট করলেন তিনি হাসপাতালকর্মীদের ছবি আঁকতে চান। ডাক্তার, নার্স, রোগীদের সামগ্রিক দায়িত্বে থাকা কি-ওয়ার্কারসহ অনেকেই সাড়া দিলেন। আমি তৈলচিত্রে তাদের পোর্ট্রটে এঁকে দিলাম। এই কাজগুলো করেছি বিনামূল্যে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ভাবনা থেকেই এই কাজের শুরু।’
হ্যারিয়েট ডারকিং এনএইচএসের দুর্ঘটনা ও জরুরি বিভাগের নার্স হিসেবে কর্মরত। তার পোর্ট্রটে এঁকেছিলেন টম। নিজের পোর্ট্রটে দেখে শিল্পীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভেসে যান হ্যারিয়েট। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, ‘ছবিটি দেখে আমার প্রথম অনুভূতি– আমার আইব্রো একেবারে আমার মতো হয়েছে। আমি সারা জীবন এই ছবিটি সংরক্ষণ করতে চাই। যাতে পেছন ফিরে তাকালেই ভালোবাসার এই নিদর্শন আমাকে আনন্দিত করে। আমার জন্য এটি খুবই আনন্দদায়ক ব্যাপার।’
টম ক্রফট ইন্সটাগ্রামে সম্মুখযোদ্ধাদের জন্য একটি পেইজ তৈরি করেন। তাদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই পেইজটি তৈরি করা হয়েছে। সম্মুখযোদ্ধাদের যে কেউ সেখানে আবেদন জানাতে পারবেন অথবা তাদের পক্ষ থেকে অন্য কেউ আবেদন করলেও বিনামূল্যে তার পোর্ট্রেট এঁকে দেওয়া হবে। টমের ভাবনা মনে ধরল শিল্পী ম্যারি জেইন অ্যানসেলের। করোনার এই সময়ে সম্মুখযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এক অপূর্ব মাধ্যম হতে পারে তাদের আঁকা ছবি। এই দুঃসহ সময়ে সবাই তো আর সম্মুখযোদ্ধাদের মতো কাজে নেমে পড়তে পারবে না। তবে নিজে যে পেশায় আছেন সেই স্ব স্ব পেশায় থেকেই সময়ের সাক্ষী হওয়া যায়।
ক্যারোলিন পিন্টো অক্সফোর্ড হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের নার্স। টমের পোস্ট দেখে সাড়া দেওয়া মানুষের ভেতরে তিনিও একজন। ক্যারোলিনের সঙ্গে টম শিল্পী ম্যারি জেইনের পরিচয় করিয়ে দেন। ম্যারি জেইন আনন্দিত চিত্তে ক্যারোলিনের ছবি আঁকতে বসেন। স্কাইপের এক পাশ থেকে মডেল হিসেবে ক্যারোলিন বসেন, অন্যপাশে রংতুলি হাতে ছবি আঁকেন শিল্পী ম্যারি। নার্স ক্যারোলিন যেখানে জীবন বাজি ধরে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছিলেন তখনো তিনি ভাবতেই পারেননি এত মানুষের শ্রদ্ধা চোখে জল এনে দেবে তার। শিল্পীর মডেল হয়ে স্কাইপের সামনে বসতেই কথার খই ফুটল তার। জানালেন, ‘মানুষ যেভাবে আমাদের সমর্থন করে যাচ্ছে তা আসলে অভাবনীয়। প্রত্যেকের সমর্থন জানানোর উপায় ভিন্ন কিন্তু অনুভূতি একই। দিনশেষে আমরা (হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা) কাজ থেকে ফিরছি। হাসপাতালে কাজ করার সুবাদে সবার থেকে আলাদা থাকতে হচ্ছে আমাদের। যারা বাসায় বসে কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য সামান্যই। জরুরি প্রয়োজনে যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদের সবার অবস্থাই এক।’
রয়েল সোসাইটি অব পোর্ট্রটে পেইন্টারস
ব্রিটেনের রয়্যাল সোসাইটি অফ পোর্ট্রটে পেইন্টারস একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এটি শিল্পীর তুলিতে পোর্ট্রটে বা মানব প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিকরূপে নিয়ে এসেছে। পোর্ট্রটে শিল্পীদের স্বীকৃতি ও শিল্পের ধারাকে সংরক্ষণের জন্য এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। ১৮৯১ সালে লন্ডনের নামি চিত্রশিল্পীদের সমন্বয়ে একটি দলের উদ্যোগে ‘সোসাইটি অব পোর্ট্রটে পেইন্টারস’ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমবারের সেই কমিটিতে আর্চিবাল্ড জন স্টুয়ার্ট-ওয়ার্টলিকে চেয়ারম্যান করে, জেমস জেবুসা শ্যানন, জর্জ পার্সি জাকম্ব-হুড ও আর্থার মেলভিল এবং মাননীয় জন কোলিয়ারকে নিয়ে গঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। প্রতিষ্ঠার পরে ব্রিটেনের চলমান পোর্ট্রেট আন্দোলনের ধারাকে একটি অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। ১৯১১ সালের ২০তম বার্ষিকী উদযাপন করে এই প্রতিষ্ঠান। সে-সময় রাজা পঞ্চম জর্জ সোসাইটিকে একটি রয়্যাল সোসাইটির মর্যাদা প্রদান করেন। এরপর থেকে এটি রয়্যাল সোসাইটি অফ পোর্ট্রটে পেইন্টারস নামে পরিচিত হয়।
আঠারো শতকের শেষদিক থেকে পোর্ট্রটে পেইন্টিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত হয়। উচ্চ পদমর্যাদা বা কৃতিত্বের ব্যক্তিদের উদযাপন এবং সম্মান জানানোর উপায় হিসেবে প্রতিকৃতিগুলো কমিশন করাই কেবল ফ্যাশনেবল হয়ে ওঠেনি, বরং এটি একটি ঘরানাতে পরিণত হচ্ছিল। রয়্যাল সোসাইটি অফ পোর্ট্রটে পেইন্টারস প্রতি বছর পোর্ট্রটে নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। লন্ডনের মল গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়। বছরে একটি পোর্ট্রটে জমা দিতে পারেন শিল্পীরা। প্রদর্শনী শেষে সেরা শিল্পীকে পুরস্কার প্রদান ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিল্পীদের পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে পোর্ট্রটে শিল্পীদের উৎসাহিত করতে চান তারা। এছাড়াও পোর্ট্রটে ঘিরে বছর জুড়ে বিভিন্ন কর্মশালা, আলোচনা-সমালোচনাও চলে।
শ্রদ্ধা জানানো সেই ছবি নিয়ে অনন্য প্রদর্শনী
সম্মুখযোদ্ধাদের সম্মান জানানো সেই পোর্ট্রটে নিয়ে করা হয়েছে ভিন্নরকম আয়োজন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পীদের আঁকা প্রায় ২০০টি কাজ পোর্ট্রেট নিয়ে রয়্যাল সোসাইটি অফ পোর্ট্রটে পেইন্টারস মে মাসের ৬-১৫ তারিখ পর্যন্ত লন্ডনের মল গ্যালারিতে তাদের এ বছরের বার্ষিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
সেখানে শিল্পী মেলিসা স্কট মিলাররের আঁকা লন্ডনের নাইটিঙ্গেল হাসপাতালের এক ডাক্তারের একটি ছবি প্রদর্শিত হবে। শিল্পী মেলিসা স্কট মিলার বিবিসি নিউজকে বলেন, তিনি টমের ডাকে সাড়া দিয়েছেন কারণ, ‘চিকিৎসা পেশায় জড়িত যে কেউ মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। তাদের নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করার মানসিকতা ও সাহসিকতা দেখে আমি অন্যান্য সবার মতো অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। তাদের দেখে আমার নিজেকে তখন খুবই শক্তিহীন মনে হচ্ছিল। আমি কেবল আমার ফ্ল্যাট বা স্টুডিওতে বসে ছবি আঁকছিলাম। আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়নি।’ তবে ডাক্তারের ছবি আঁকতে পেরে ভীষণ খুশি তিনি। একজন শিল্পী হিসেবে তিনি আশা করেন তাদের আঁকা ছবি হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ‘কৃতজ্ঞতার নির্দশন’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলতেই জানা গেল ডাক্তার রিচের ছবি আঁকার জন্য তার একটি ফটোগ্রাফ দরকার ছিল। ডাক্তার রিচ তখন নাইটিঙ্গেল হাসপাতালে ভীষণ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। শিল্পী স্কট মিলার ডাক্তার রিচকে তার প্রয়োজনের কথা জানাতেই ডাক্তার রিচ সেই ব্যস্ততার মধ্যেই ফোন করে বসেন। এতে স্কট মিলার খুবই অবাক হন। শেষ পর্যন্ত ডাক্তার রিচের ছবি পেলেন। ডাক্তার স্ক্রাব (হাসপাতালে পরার জন্য বিশেষ পোশাক) ও পিপিই পরা নিজের একটি ছবি পাঠিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তার মুখাবয়ব ভীষণ সুন্দর। ছবিটি দেখেই আমি সিদ্ধান্ত নিই আমি তাকে মাস্ক ছাড়াই আঁকব। আমি মনে করি কাজটা ভালো হয়েছে। তার ফটোগ্রাফ থেকে আমি তার ছবি আঁকার চেষ্টা করেছি কেবল, আমি তাকে সামনাসামনি দেখিনি কখনো। মূল চ্যালেঞ্জ ছিল এখানেই।’
শিল্পী কেট নিউইংটন সাউথ টাইনসাইড ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালের সম্মুখযোদ্ধা রক্ত পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত আমান্ডার কোলাজ পোর্ট্রটে তৈরি করেছেন। সেখানেও আছে এক মজার ঘটনা। আমান্ডার মেয়ে শিল্পী কেটের কাছে মায়ের ছবি এঁকে দেওয়ার অনুরোধ করেন। মেয়ের উদ্দেশ্য ছিল মাকে চমকে দেওয়া। কিন্তু কে জানত সেটি যে একটি প্রদর্শনী পর্যন্ত গড়াবে! সবটা জেনে শিল্পী তাই ছবিটির নামকরণেও বেছে নেন সম্মুখযোদ্ধার নাম– ‘আমান্ডা’। সেটিও প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে এই প্রদর্শনীতে।
কেট নিউইংটন বেশ কিছু ছবি থেকে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একই ছবির কয়েকটি সংস্করণ তৈরির কাজটি আমি বেশ উপভোগ করছি। ‘আমান্ডা’ সম্ভবত আমার আঁকা একমাত্র ছবি যেখানে আমি মাস্ক ও হেলমেট পরা কাউকে এঁকেছি। একজন ব্যক্তির পুরো ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করার জন্য পোর্ট্রেট শিল্পীর মানুষের চোখ দেখার প্রয়োজন পড়ে। ছবিটি আমার কাছে একজোড়া চোখের পোর্ট্রটে। যদিও আমার কাজের তালিকা অনেক লম্বা এবং এটি সত্যি অনন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।’ মেলিসা স্কট মিলার ও কেট নিউইংটন– দুজন শিল্পীই অনুপ্রাণিত হয়েছেন চিত্রশিল্পী টম ক্রফটের কাজ দেখে।
উদযাপনের জন্য জীবন
রয়্যাল সোসাইটির প্রদর্শনীর লক্ষ্য বিপর্যস্ত সময়ে এই পোর্ট্রটেগুলো নিয়ে একটি বৈচিত্র্যময় ঘরানার উদযাপন করা। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ জানান, ‘একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের পোর্ট্রটে আঁকার কাজকে জনপ্রিয় করে তোলা আমাদের লক্ষ্য। সমস্ত মানবজীবন আমাদের এখানে উদযাপিত হয়। পোর্ট্রটে বর্তমান সময়ের একটি আকর্ষণীয় সূচক। শিল্পীর আঁকা পোর্ট্রটে সময়ের আয়নায় মেলে ধরে বিভিন্ন সময়ের মানুষের জীবন।’
প্রদর্শনীতে আসা বিখ্যাত মানুষদের মধ্যে আছেন অভিনেত্রী ডেম মরিন লিপম্যান ও অভিনেতা জো ম্যাকগ্যান। এ বছর প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত শিল্পীদের মধ্যে একজনকে নতুন ২০ হাজার পাউন্ড সমমূল্যের উইলিয়াম লক পোর্ট্রটে পুরস্কার প্রদান করা হবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে পোর্ট্রটে আঁকার জন্য ১০ হাজার পাউন্ড ওন্ডাটিয়া পুরস্কার ও প্রিন্স অফ ওয়েলসের পুরস্কার।
