পবিত্র শবেকদর হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ০৬:২৯ এএম

পবিত্র শবেকদর কোন রাতে, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কোথাও কিছু বলা হয়নি। তবে পূর্ববর্তী বুজুর্গরা বিভিন্ন গবেষণা ও আলামত দেখে অভিজ্ঞতার আলোকে ২৬ রমজান দিবাগত রাতকে শবেকদর হওয়ার বিষয়ে মত ব্যক্ত করেছেন। সে হিসেবে আজ সূর্যাস্তের পর শুরু হবে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম ও মহিমান্বিত রজনী শবেকদর। এ রাতের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ‘কদর’ নামে স্বতন্ত্র একটি সুরা নাজিল করেছেন। ফলে এ রাত গুরুত্ব ও তাৎপর্যের দিক থেকে বছরের অন্যান্য রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।

মূলত রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে শবেকদর রয়েছে বলে বর্ণনা রয়েছে। তাই রমজান শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই সম্ভাবনা থেকে যায়। ফলে অবহেলা না করে রমজানের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাতের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা দরকার।

শবেকদর প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতে) দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ -সহিহ বোখারি

কদরের মহিমান্বিত রাত হচ্ছে অন্তরের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলার এক সুবর্ণ সুযোগ। যারা কদরের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগি করে, আল্লাহ তাদের নাম পুণ্যবানদের তালিকাভুক্ত করে নেন এবং জাহান্নামের আগুনকে তাদের জন্য চিরতরে হারাম করে দেন। মানুষের জীবনে এর চেয়ে আর কী চাওয়া থাকতে পারে? পুণ্যবানদের তালিকাভুক্ত হওয়ার অর্থ হলো- আল্লাহর নৈকট্য লাভ; তার সন্তুষ্টি অর্জন। আর আল্লাহর নৈকট্য লাভই তো মুমিন-মুসলমানের জীবনের পরম লক্ষ্য।

এ রাতের আমলের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও তাসবিহ পাঠের কথা বলা হয়েছে। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। -ইবনে মাজা

তবে মনে রাখতে হবে, কোনো ইবাদত যেন লোক দেখানো না হয়। লোক দেখানো ইবাদত শিরকের সমতুল্য। ইবাদত কম হলে আপত্তি নেই; তবে তাতে একনিষ্ঠতা থাকা বাঞ্ছনীয়। একনিষ্ঠতা ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আর আপনার ইবাদত যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখা।

হাদিসে বলা হয়েছে, বান্দার গোনাহের পরিমাণ যদি পর্বত পরিমাণ কিংবা আকাশের তারার মতো অগণিতও হয় তবুও সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। তবে রাতজাগা মানে দৈহিক জাগৃতি নয় বরং অন্তরকে জাগ্রত রাখা। আল্লাহ যাদের শারীরিক সুস্থতা দিয়েছেন, তাদের উচিত শবেকদরকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।

লেখক : খতিব, রহিম মেটাল জামে মসজিদ, তেজগাঁও

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত