মহাকাশে নিয়ন্ত্রণহীন চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ আজ রবিবার প্রথম প্রহরের পর যেকোনো সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-ফোকাসড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। গতকাল শনিবার ইতালির একজন জ্যোতির্পদার্থবিদ রকেটটির ধ্বংসাবশেষের ছবি তুলে বলেছেন একই কথা। তবে সেটি ঠিক কোন সময়ে বা কোন জায়গায় পড়বে তা নিশ্চিত নয় কেউই। চীনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, রকেটটির ধ্বংসাবশেষ নিয়ে পৃথিবীবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ সেটি ভূপৃষ্ঠে নামার আগেই প্রায় পুরোটা ধ্বংস হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৩ টনের এই রকেটটি বায়ুমণ্ডলে পতিত হওয়ার সময়ই টুকরো টুকরো হওয়া শুরু করবে এবং অধিকাংশই আগুনে পুড়ে যাবে। পুড়ে যাওয়ার পর বাকি অংশগুলোই পৃথিবীর ভূমিতে পড়বে। পৃথিবীর ৭০ ভাগই সাগর হওয়ায় সাগরে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি, তবে অবশ্যই এটি নিশ্চিত নয়।
তবে লং মার্চ ৫বি নামের রকেটটি ঠিক কোন সময়ে এবং কোন অঞ্চলে এটি পতিত হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা এখনো সম্ভব হয়নি। এ ধরনের পূর্বাভাস মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া সম্ভব হয় কারণ আহ্নিক গতির ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর পতন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পরিবর্তিত হয়।
তবে এর ছবি তোলা ইতালীয় জ্যোতির্পদার্থবিদ গিয়ানলুকা মাসি বলেন, ‘ছবিটি তোলার সময় রকেটটি আমাদের টেলিস্কোপ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে ছিল। তখন সূর্য ছিল দিগন্ত থেকে কয়েক ডিগ্রি নিচে। তাই আকাশ ভীষণ উজ্জ্বল ছিল।’
গত ২৮ এপ্রিল কক্ষপথে স্থাপনের উদ্দেশ্যে ইংরেজি টি আকারের মহাকাশ স্টেশনের মূল মডিউলটি উৎক্ষেপণ করতে লং মার্চ ৫বি রকেটটি ব্যবহার করা হয়। রকেটটি মহাকাশ স্টেশন থেকে আলাদা হওয়ার পর কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারোস্পেস করপোরেশন থেকে এক টুইটে বলা হয়, সিওআরডিএসের সর্বশেষ অনুমান অনুযায়ী রবিবার জিএমটি ০৪:১৯ মিনিটের আট ঘণ্টা আগে বা আট ঘণ্টা পরে চীনের ‘লং মার্চ ৫বি’ রকেটটির ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে।
সিওআরডিএসের অনুমানে পুনঃপ্রবেশের সম্ভাব্য অঞ্চল হিসেবে নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের আশপাশের কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে, পৃথিবীতে প্রবেশ পথের যেকোনো জায়গায় তিয়ানহে মডিউল চীনের নির্মাণাধীন স্থায়ী মহাকাশ স্টেশনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্টেশনটির তিন ক্রুর বসবাসের কোয়ার্টার এই মডিউলটিতে করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের জন্য কক্ষপথে মোট ১১টি মিশন পরিচালনা করবে চীন। এর প্রথমটিতেই ‘লং মার্চ ৫বি’ রকেটে করে তিয়ানহে মডিউল কক্ষপথে পাঠানো হয়।
‘লং মার্চ ৫বি’র ধ্বংসাবশেষ কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এ নিয়ে আশঙ্কার পাশাপাশি অনেকে এজন্য চীনের তীব্র সমালোচনা করছেন।
যদিও চীনের দাবি, তাদের রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর জন্য একদমই বিপজ্জনক হয়ে উঠবে না।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরপরই রকেটের ধ্বংসাবশেষ পুড়ে যাবে। তাই সেটির কারণে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
তবে হার্ভার্ডভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী জনাথন ম্যাকডোয়েল এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর রকেটের ধ্বংসাবশেষের পুরোটা পুড়ে না গিয়ে সেটার কিছু অংশ ভূমিতে আঘাত করতে পারে, হয়তো আবাসিক এলাকাতে।
