পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মির্জার পোষা পাখি খাঁচা থেকে উড়ে যাওয়ার পর তা উদ্ধার করেছে পশুপাখি উদ্ধারকারী সংগঠন- রবিনহুড।
মঙ্গলবার বিকালে রবিনহুডের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা আফজাল খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সোমবার সকাল এগারোটার দিকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে কলার নিজেকে আইজিপির স্টাফ অফিসার পরিচয় দিয়ে ফোনে এক ব্যক্তি জানান, আইজিপির বাসভবন থেকে পোষা দুটি ম্যাকাও পাখি খাঁচা থেকে ছুটে গিয়েছে। পাখি দুটি উদ্ধারে রবিনহুডের সহযোগিতা চান তিনি।
খবর পেয়ে রবিনহুড টিম মিন্টোরোডে আইজিপির সরকারি বাসভবনে ছুটে যায়। তাদের সঙ্গে যোগ দেন পাখি বিক্রেতা শিমুল ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
আফজাল খান বলেন, সবার সম্মিলিত চেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আইজিপির বাসভবনের পেছনের আরেকটি ভবনের চারতলার গ্রিল থেকে একটি ম্যাকাও পাখি উদ্ধার করে রবিনহুড। এরপর সেটি আইজিপির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে অপর পাখিটি তখনও বড় একটি গাছের মগডালে বসা ছিল। আইজিপির স্ত্রী ও পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী জীশান মির্জার একটি পাখি ফিরে পেয়ে খুশি হন। অপর পাখিটি এমনিতেই চলে আসবে বলেও তিনি আশা করেন।
তখন রবিনহুডের সদস্যরা অন্য একটি অভিযানে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে চলে যান। সেখান থেকে আবার মহাখালীর আরেকটি অভিযানে যাচ্ছিল রবিনহুড টিম। তখন আইজিপির স্টাফ অফিসার আবার রবিনহুডকে ফোন দেন।
ফোনে স্টাফ অফিসার জানান, বাসভবনের পাশেই গাছে অপর ম্যাকাও পাখিটি বসে আছে, এখনও ফেরত আসেনি। তাকে নামানো যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেওয়া হয়েছে। আপনারা আসুন।
ফোন পেয়ে রবিনহুড টিম ফের মিন্টোরোডে যায়। গিয়ে দেখেন আইজিপির বাসভবনের একটি গাছের মগডালে অপর পাখিটি বসে আছে। এরপর সেটি উড়ে অপর একটি গাছের ডালে বসে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পানি ছুড়ে পাখিটিকে নিচে ফেলেন। তখন সেটি ধরে বাসায় নিয়ে আসা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও রবিনহুডের আড়াইঘণ্টার চেষ্টায় দ্বিতীয় পাখিটি উদ্ধার করা হয় বলেও জানান আফজাল।
রবিনহুডের কাজে আইজিপি এবং তার স্ত্রী খুশি হয়ে টিমের সবাইকে নিয়ে ইফতার করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান।
