দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে চট্টগ্রামে বেড়েছে ঈদের কেনাকাটা। চট্টগ্রামে অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের মার্কেটে চলছে কেনাকাটা। তবে বাজারে নেই স্বাস্থ্যবিধি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বিক্রি বেড়েছে তবে বিভিন্ন বাহারি নামের পোশাকের আগ্রহও নেই এবার। অন্যদিকে নিম্নবিত্তের ঈদ কেনাকাটায় রয়েছে টানাপড়েন।
চট্টগ্রামে গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার নিউ মার্কেট, মিমি সুপার মার্কেট, তামাকুম-ি লেন, স্যানমার ওশান সিটি, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেট, বে-শপিং এবং নগরীর ফুটপাতগুলোতে দেখা যায় মানুষের ঢল। ঈদের কেনাকাটায় মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে; সামাজিক দূরত্ববিধি মানা, মাস্ক পরার নির্দেশনা তোয়াক্কা না করেই।
নগরীর নিউ মার্কেটে নিচতলার একটি পাঞ্জাবির দোকানে কথা হয় চন্দনাইশ থেকে আসা মো. রহিমের সঙ্গে। পরিবার নিয়ে ঈদবাজার করতে এসেছেন জানিয়ে বললেন, ‘অন্যান্য বছর কয়েক দিন ধরে কেনাকাটা করতাম। করোনার কারণে এবার এক দিনেই সব করতে হচ্ছে। ছেলের জন্য পাঞ্জাবি কিনেছি, ফ্যাশন হাউজগুলো অন্যবারের মতো পোশাকের ভিন্নতা রাখেনি।’
এদিকে নগরীর মিমি সুপার মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে বিকেলে। নগরীর অভিজাত এ মার্কেটে মেয়েদের পোশাকের জন্য খ্যাত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ঈদের সময় বাংলাদেশের মেয়েদের পোশাক ভারতের বাংলা সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের নাম বা সিরিয়ালের নাম দিয়েই বিক্রিবাট্টা বেশ হতো। এবারে সেই বাহারি নামে ঈদ পোশাক নেই । তবে চলছে ঢালাও কেনাকাটা।
মিমি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান বলেন, কয়েক দিনের তুলনায় সোমবার ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। জমজমাট বেচাবিক্রি, মানুষজন ঈদের আগমুহূর্তে মার্কেটমুখী। তবে মার্কেট খোলা রাখার সময়টা বাড়ালে ভালো হতো। ইফতারের পরই মানুষজন বের হয় কেনাকাটা করতে। আরেকটা বিষয় হলো এবার সিরিয়ালের নামে পোশাক নেই।
গতবার ও এবারের ঈদে সিরিয়ালের নামে পোশাকের আধিক্য নেই। করোনা মহামারীর আগে ঈদের বাজারে ‘কিরণ বালা’, ‘পাখি’, ‘কারিনা’ এসব পোশাকের আধিপত্য থাকলেও এবার এসবের প্রচারণা নেই। এবার তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন দেশীয় পোশাক। লং ড্রেস, গাউন ও সুতির থ্রিপিস কিনছেন অনেকেই। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মলের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
আগ্রাবাদ আখতারুজ্জামান সেন্টারে আসা কাট্টলী এলাকার আল শারমিন লতা বলেন, ‘করোনার এ সময়ে কোনোভাবে কেনাকাটা সেরেছি। দোকানে থাকা পোশাকগুলো থেকে দেখেশুনে পছন্দ করে কিনেছি। এবার কালেকশন ও ফ্যাশন নেই। তবে দাম বেড়েছে। সাধারণ হালকা রঙের থ্রিপিস দেড় হাজার টাকার কমে নেই। অথচ স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা।
নগরীর স্যানমার ওশান সিটির ইয়েলো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের এক বিক্রয়কর্মী জানান, ক্রেতাদের মন-মানসিকতা আগের চেয়ে পরিবর্তন হয়েছে। ফ্যাশন সচেতনতার চেয়ে মানুষ ভালো মানের পোশাক কিনতে বেশি আগ্রহী।
এদিকে নগরীর অধিকাংশই মার্কেটই গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখছে। যার ফলে মানুষের আনাগোনায় স্বাস্থ্যবিধি উবে গেছে।
নিম্নবিত্তের আর্থিক টানাপড়েন : করোনাকালীন সময়ে আয় না থাকায় নিম্নবিত্তরা আর্থিক টানাপড়েনে পড়েছে। ঈদ কেনাকাটায় শামিল হলেও বেশিরভাগ দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ তাদের পরিবারে ছোট বয়সীদের জন্য কেনাকাটা করছেন। নগরীর জহুর হকার্স মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকাজুড়ে ফুটপাতে বসা হকাররা জানিয়েছেন, ঈদ কেনাকাটা চলছে তবে বিগত বছরগুলোর মতো জমজমাট বেচাবিক্রি হচ্ছে না।
নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলের সামনে ছোটদের শার্ট-প্যান্ট ও ফ্রক নিয়ে বসা হকার মো. শাহীন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ বিক্রি বেড়েছে কিন্তু অন্যান্য ঈদের মতো জমজমাট না। মানুষজন শুধু বাচ্চাদের জন্য এক সেট পোশাক কিনছে।
