ঈদ ছুটিতে পরীক্ষা ও শনাক্ত হার কমেছে

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ০৫:৫৬ এএম

ঈদের ছুটির মধ্যে দেশে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোগী শনাক্তও কমেছে। এর মধ্যে শনাক্ত হার কমে ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। এছাড়া দৈনিক মৃত্যুও কমে ৩০-এর নিচে নেমেছে।

ঈদের ছুটির মধ্যে গত পাঁচ দিনে নমুনা পরীক্ষা ব্যাপক কমেছে। গত বুধবার প্রায় ১৫ হাজার এবং বৃহস্পতিবার ১৩ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হলেও পরের তিন দিন পরীক্ষা ১০ হাজারের অনেক নিচে নেমেছে। এরমধ্যে শুক্রবার ঈদের দিন ৭ হাজার ৮৩৫, শনিবার ৩ হাজার ৭৫৮ এবং গতকাল রবিবার ৫ হাজার ৪৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষা কমায় এ কয়দিন রোগীও কম শনাক্ত হয়েছে। বুধবার ১ হাজার ১৪০, বৃহস্পতিবার ১ হাজার ২৯০, শুক্রবার ৮৪৮, শনিবার ২৬১ এবং গতকাল রবিবার ৩৬৩ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই পাঁচ দিনের তিন দিনই রোগী শনাক্ত হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। বাকি দুই দিনের মধ্যে ঈদের দিন সবচেয়ে বেশি ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে এবং আগের দিন ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। এছাড়া এ পাঁচ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে গতকাল। এদিন ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়, যা চলতি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বনিম্ন শনাক্ত হার এবং গত ৬৪ দিন বা প্রায় দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২৩ মার্চ এর চেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

অন্যদিকে এই পাঁচ দিনে দেশে করোনায় মোট ১৪৪ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ জন মারা গেছেন বুধবার। আর সর্বনিম্ন ২২ জন মারা গেছেন শনিবার, যা গত ৫৪ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া ঈদের দিন মারা গেছেন ২৪ জন এবং গতকাল মারা গেছেন ২৫ জন রোগী।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৩৪তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৪৫৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৬টি জিন-এক্সপার্ট, ২৯৫টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৮টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৫ হাজার ৫০৮ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৩০ জনের, যার মধ্যে ৯৮৫টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৭ হাজার ৭১৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫৯ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ১৪৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৬ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৮ ও নারী ৭ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৯৭ পুরুষ ও ৩ হাজার ৩৫২ নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৪১ ও নারী ২৭ দশমিক ৫৯ ভাগ। এদিন ঢাকা বিভাগে ১৩ ও চট্টগ্রামে ১১ জন মারা গেছেন। বাকি ১ জন মারা গেছেন বরিশাল বিভাগে। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৩, ৫১-৬০ বছরের ৬, ৪১-৫০ বছরের ৪ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ২ জন। এদিন ২০ জন সরকারি হাসপাতালে, ৪ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১ জন বাসায় মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৩ রোগীকে আইসোলেশনে ও ২৫০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৭ হাজার ৮৪১ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪৪ হাজার ৯৯৩ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯৯১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৫৫টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ১ হাজার ১৭১টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩৭০টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত