নয়া দামান গানে ভাইরাল ভাবনা-সুমাইতার গল্প

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ০৫:৫৯ এএম

‘আইলারে নয়া দামান আসমানেরও তেরা, বিছানা বিছাইয়া দেও শাইল ধানের নেড়া, দামান বও দামান বও’ সিলেট অঞ্চলের এই গানটি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়ার কারণ হচ্ছে বহু বছর পর গানটির রিমেক ভার্সন তৈরি করেছেন প্রবাসী সংগীতশিল্পী মুজাহিদ আব্দুল্লাহ। যিনি মুজা নামে পরিচিত। তার সঙ্গে গেয়েছেন সিলেটের শিল্পী তোসিবা। গানটির গীতিকার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও নানাজনে নানাভাবে রিমেক হওয়া গানটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছেন। ফেইসবুক, ইউটিউব, টিকটক, লাইকিসহ সব সোশ্যাল মিডিয়ায় গানটি এখন বাংলাদেশের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

এই গানের সঙ্গে নেচে ভাইরাল হয়েছেন রুখসার আহমেদ ভাবনা ও সুমাইতা মারজিয়া নামের দুজন ভিডিও ব্লগার। বাসার ছাদে শাড়ি পরে গানটির সঙ্গে পারফরম্যান্স করেছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘আরে ভাবনা’ নামের ফেইসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলে গানের পারফরম্যান্সটি প্রকাশিত হয়। ইতিমধ্যেই কয়েক মিলিয়ন ভিউ হয়েছে তাদের ভিডিওটির।

ভাইরাল হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে রুখসার আহমেদ ভাবনা বলেন, ‘আমি নরমালি আমার পেইজ ও চ্যানেলে নানা ধরনের ভিডিও তৈরি করে আপ দিই। এই গানটি যখন করি তখন বুঝতে পারছিলাম এটার জন্য ভালো সাড়া পাব। কিন্তু এটা যে এভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে তা ভাবিনি। এ জন্য আমি খুবই খুশি। একটা কাভার করা গান ভাইরাল হওয়া কিন্তু সহজ ব্যাপার না। আমি খুব খুশি যে নাচটাকে ভালোবেসে ভিডিওটাকে ভাইরাল করেছে।’

ঠিক কী কারণে গানটি কভার করেছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে ভাবনা বলেন, ‘আমি আমার ইন্সটাগ্রামে পোস্ট দিয়েছিলাম যে এরপরে কোন গান কাভার করা যেতে পারে। সবাই আমাকে সাজেস্ট করছিল ‘নয়া দামান’ গানটা কাভার করার জন্য। তো সেভাবেই আমরা গানটা করি। আর আমরা এমন বাংলা গান সচরাচর পাই না। এ জন্য বেশির ভাগ সময় হিন্দি গানের কাভার করতে হয়।’

ভাইরাল হওয়ার ব্যাপারে সুমাইতা বলেন, ‘আমরা নরমালি কোনো ভিডিও করার আগে ভাবি যে ভিডিওটা যেন ভালো হয়, মানুষ পছন্দ করে। কিন্তু গানের এই ভিডিওটায় এত সাড়া পাব তা ভাবিনি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন চ্যানেলে, পত্রিকার নিউজেও আমাদের ভিডিওটা এসেছে। আমরা তো অনেক ভিডিওই করি কিন্তু এভাবে এত মানুষের টাইমলাইনে কখনো এর আগে এমনভাবে আসেনি। এটাতে খুব বেশি ভালো লেগেছে।’

গানটিতে পারফর্ম করার জন্য বাসার ছাদ কেন বেছে নিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সুমাইতা বলেন, ‘এটা আউটডোর, ইনডোরে বা অনেক জায়গাতেই করতে পারতাম। কিন্তু আমরা যারা কনটেন্ট বানাই তাদের সুযোগ-সুবিধা অনেক সীমিত। ফলে ছাদটাই পারফেক্ট ছিল। আর তখন লকডাউন চলছিল। ফলে অন্য কোনো উপায়ও ছিল না।’

ভাবনা আছেন ফেইসবুক, ইউটিউবে এবং ইন্সটাগ্রামে। গত বছর লকডাউনের সময় নিজের চ্যানেল তৈরি করেন ভাবনা। তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই নাচি। এ রকম একটা চ্যানেল করার ইচ্ছে অনেক আগে থেকে থাকলেও লকডাউনের সময় এটি বাস্তবায়ন করতে পারি। এরপর ‘আরে ভাবনা’ পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে নানা ধরনের কনটেন্ট আপলোড করতে থাকি। আগের ভিডিওগুলো মানুষ পছন্দ করলেও ‘নয়া দামান’ দিয়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’

ভাবনার পেইজ থাকলেও সুমাইতার নিজস্ব কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। তিনি বলেন, ‘আমি আলাদাভাবে কিছু করিনি। আমার আলাদা কিছু করার ইচ্ছেও নেই। আমার ভালোলাগা থেকেই ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটকে ভিডিও আপলোড দিই।’

ছোটবেলা থেকেই নাচ শিখেছেন তারা দুজন। বগুড়া ও ঢাকার বেশকিছু নৃত্য অ্যাকাডেমিতে নাচ শিখেছেন ভাবনা আর সুমাইতা জানালেন, ছোটবেলায় মহল্লার নৃত্য অ্যাকাডেমিতেই তার নাচে হাতেখড়ি। বেশ কিছু রিয়্যালিটি শো’র অডিশনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে সুমাইতার।

উল্লেখ্য, বগুড়ার মেয়ে রুখসার আহমেদ ভাবনা বাবার চাকরি সূত্রে নানা জায়গায় বসবাস করেছেন। সর্বশেষ থিতু হয়েছেন ঢাকায়। স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ভাবনা যুক্ত রয়েছেন শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও। অপরদিকে ঢাকাতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুমাইতা মাস্টার্স করছেন বিইউপিতে। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সুমাইতার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত