কথা সাহিত্যিক মাহবুব মোর্শেদের উপন্যাস ‘নোভা স্কশিয়া’ অবলম্বনে ‘মিস্টার কে’ নামের টেলিফিল্ম নির্মাণ করেছেন পরিচালক ওয়াহিদ তারেক। ‘বঙ্গ বব-সিজন ওয়ান’ এর এই বিশেষ টেলিফিল্মটিতে অভিনয় করেছেন পার্থ বড়ুয়া, অর্ষা, সুষমা, শাহেদসহ আরও অনেকে। এটি বঙ্গ বিডিতে প্রচারিত হবে ঈদের ৬ষ্ঠ দিন ১৯ মে রাত ১০টায়।
ধনী বাবার বিদেশি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে ছেলেকে সাহায্য করছেন এক পরিসংখ্যানবিদ। সব হিসেব কি অঙ্কতে মিলবে? এমনই এক রহস্যের সমাধান মিলবে এই টেলিফিল্মে।

‘নোভা স্কশিয়া’ উপন্যাস থেকে টেলিফিল্মের নাম ‘মিস্টার কে’তে পরিবর্তনের ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিচালক ওয়াহিদ তারেক বলেন, ‘প্রথমত হচ্ছে ‘নোভা স্কশিয়া’ একটা কঠিন নাম। এই গল্প যারা পড়েছেন তাদের কাছে হয়তো পরিচিত নাম, কিন্তু যারা পড়েননি তাদের কাছে সিম্পল একটা নাম দেওয়ার চিন্তা করেছি। সেখান থেকেই ‘মিস্টার কে’ নাম দেওয়া। দ্বিতীয়ত, এখানে কায়কোবাদ এ খান নামে এক লোকের গল্প বলা হয়েছে। তো তার নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘মিস্টার কে’ নামটাকে ওয়ার্কিং ফাইলের নাম রাখা হয়েছিল। সেই সুবাদেই এটার নাম দেওয়া হয় ‘মিস্টার কে’।
পরিচালক জানালেন ৫দিনে শুটিং করা হয়েছে টেলিফিল্মটি। বেশির ভাগ শুটিং হয়েছে ঢাকায়। ঢাকার বাইরের একটা রিসোর্টেও শুট করা হয়েছে বলে জানালেন।

উপন্যাসের কতটুকু টেলিফিল্মে আনা সম্ভব হয়েছে জানতে চাইলে ওয়াহিদ তারেক বলেন, ‘আসলে আমি গল্প কতটুকু আনতে পেরেছি, বিষয় সেটা না। যেকোনো গল্পের আমি প্রথমত পাঠক। পাঠক হিসেবে এই গল্পের যে জায়গাটা টেনেছে সেটা এনেছি। এই গল্পটা অনেক ইন্টারেস্টিং এবং এই গল্পের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবগুলো লেয়ার নিয়ে এতো অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এই গল্পে বিজ্ঞান আছে, সাইকোলজি আছে, অনেক কিছু আছেই। এই গল্পের হিউম্যান রিলেশনশিপ বিষয়টাকে নিয়ে আমি কাজ করেছি। এটাকেই আমি টাচ করেছি। যদি এই প্রশ্ন করা হয় যে গল্পের কতটুকু আমি আনতে পেরেছি- এই প্রশ্নের জবাব আমার কাছে নেই। অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে আমার পছন্দের বিষয়টি এনেছি। আরেকজনের কাছে এই গল্প পড়লে কমপ্লিটলি এটা অন্যরকম হবে। আমি নিশ্চিত। আমি যেটা করছি সেটা হয়তো লেখকের মাথাতেও নেই।’

টেলিফিল্মের শুটিং করতে গিয়ে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধান সমস্যা ছিল করোনা। এ কারণে একটা অনিশ্চয়তা ছিল, শুট করতে পারব কিনা, শিডিউল পাবো কিনা। স্ক্রিপ্ট করতে গিয়েও অনেকটা ভুগেছি। এতো অল্প সময়ে করার জন্য এই গল্পটা চয়েস করা ভুল ছিল, ‘মিস্টার কে’ কমপ্লিকেটেড একটা গল্প। আমাদের দেশে এত অল্প সময়ে শুট করার জন্য এটা অবশ্যই জটিল একটা গল্প। তারপরও চেষ্টা করেছি, দেখি কি হয়।’
অভিনেতাদের অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা অভিনয় করেছেন সবাই ভালো অ্যাক্টিং করেছেন। ভালো অ্যাক্টররাও অনেক সময় খারাপ ডিরেকশন পেলে খারাপ অ্যাক্টিং করে। অভিনেতারা সবাই ভালো করেছে । যদি অভিনেতারা খারাপ করে সেটা হবে আমার খামতি।’
