টিআইবির বিবৃতি

রোজিনার প্রতি আচরণ সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরা

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ০৩:৪৮ এএম

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্তা ও ‘নথি চুরির’ অভিযোগে রাতে অফিমিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি এবং হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, ‘করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের ক্রয় থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতির যে ভয়াল ও অমানবিক চিত্র জাতির সামনে এসেছে, তার অনেকটাই সম্ভব হয়েছে রোজিনা ইসলামের মতো অকুতোভয় সাংবাদিকদের নিরন্তর প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার কারণে। এই সময়ে এমন ঘটনা মুক্ত সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরারই নামান্তর।’

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বরূপ রোজিনা ইসলামের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোয় উঠে এসেছে, এই ঘটনা তারই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত যারা কিছুটা হলেও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা করছেন, এটা তাদের জন্য দুর্নীতিবাজদের পক্ষ থেকে একটি হুঁশিয়ারি বার্তা বলে মনে করি। এর রেশ আমাদের ধারণারও বাইরে।’

এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয়কে টেনে এনে ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩’-এর ৩ ও ৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় মামলা দায়ের করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে রোজিনা ইসলামের সাংবাদিক পরিচয়কে কোনোভাবেই বিবেচনা করা হয়নি, বরং তাকে ফাঁদে ফেলে শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে পুরো গণমাধ্যমকেই একহাত নেওয়ার অপচেষ্টা করেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন পাস হওয়ার ফলে বাক ও মতপ্রকাশের যে আশার আলোটুকু আমরা দেখতে শুরু করেছিলাম অচিরেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে নিবর্তনমূলক ৩২ ধারায় ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩’ সন্নিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল রোজিনা ইসলামের ঘটনার মধ্য দিয়ে তার নগ্ন পরিণতি পেয়েছে। এর নিন্দা জানাবার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছি। আমরা কি সামনের দিকে এগোচ্ছি নাকি উল্টো যাত্রা শুরু করেছি? এর শেষ কোথায়? এক শ্রেণির অসাধু, নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত কর্মকর্তা ও উচ্চপদে আসীনদের কাছে সরকার কি ক্রমাগত জিম্মি হয়ে পড়ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত