লাখ লাখ ইঁদুরে ছেয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার শহর

আপডেট : ২১ মে ২০২১, ০৯:৫৯ এএম

একমাত্র মৃত ইঁদুরই ভালো ইঁদুর— চলতি সপ্তাহে এ কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মাইকেল ম্যাককোরম্যাক।

সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইঁদুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস কর্তৃপক্ষ। আপাতত বিষ প্রয়োগ করে বিদঘুটে প্রাণীটি হত্যার পরিকল্পনা তাদের।

কয়েক মাস ধরে দলে দলে ইঁদুর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ভিক্টোরিয়া সীমান্ত থেকে দক্ষিণের কুইন্সল্যান্ডে খেত ও বাড়ি-ঘরে ঢুকে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ফসল ও যন্ত্রপাতি। এর জন্য গচ্চা গেছে লাখ লাখ ডলার।

পেশাদার পরিচ্ছন্নতাকর্মী সু হেজ সিএনএনকে জানান, শীতের আভাস পেতেই ক্ষুধায় তাড়িত হয়ে মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে খুদে প্রাণীটি। তিনি জানান, রান্নাঘর থেকে বাচ্চাদের ঘর, এমনকি বিছানায়ও মিলছে ইঁদুর।

দ্রুত মৃত্যু নিশ্চিত করে এমন ফাঁদের সাহায্যে ইঁদুর নিধন করেন সু। তবে নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার আরও শক্তিশালী কিছু চাইছে, যা একসঙ্গে অনেক ইঁদুর মারবে।

বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা জানান, তাদের সংগ্রহে আছে ৫ হাজার লিটার বিশ্বের অন্যতম ইঁদুর নিধনের বিষ। যার মাত্র এক ডোজই মৃত্যু নিশ্চিত করতে সক্ষম।

তবে ঘোষণাটি সবাইকে খুশি করতে পারেনি। অনেকে বলছেন, বিষ প্রয়োগের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে খাদ্যশস্য ও স্থানীয় বন্যপ্রাণীর ওপর। ইঁদুরের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য প্রাণী মারা যেতে পারে।

কয়েক বছর ধরে খরা, বন্যাসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখছে অস্ট্রেলিয়া। এর মাঝে ২০২০ সালে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে এবার ভালোই ফসল ফলেছে। কিন্তু কৃষকদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ইঁদুর। তাদের মতে, ফসলের ঘর পরিণত হয়েছে ইদুঁরের হোটেলে।

এ দুই পেয়েদের বংশবৃদ্ধিও দ্রুত হয়। এক মৌসুমে এক জোড়া ইঁদুর থেকে আসতে পারে ৫০০টি বংশধর। তিনি সপ্তাহ পরপরই বাচ্চা দেয় তারা। যত বাচ্চা ততই খাবারের প্রয়োজন পড়ে। এর জের দিতে হয় মানুষদের। সব মিলিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এক মৌসুমেই কয়েক শো কোটি টাকা চলে যাবে ইঁদুরের পেটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত