ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মারুফ (৩৫) হত্যার ২৪ ঘণ্টায় জড়িত স্ত্রী রিনা আক্তার উর্মি ও তার প্রেমিক ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবির জানান, পরকীয়ার জেরে স্বামীকে তার স্ত্রী রিনা ও প্রেমিক ইমরান মিলে হত্যা করে। মারুফের স্ত্রী রিনার সঙ্গে ইমরানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তাদের বিয়ের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্বামী ইমরান। তাই মারুফকে রাস্তা থেকে সরানোর জন্য রিনা ও ইমরান হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শনিবার রাতে ইমরান ও মারুফ মদ্যপান করে। মারুফ রাত ২টার দিকে বাসায় ফিরে আসলে স্ত্রী রিনা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়।
মারুফ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পরলে রিনা তার প্রেমিক ইমরানকে খবর দেয়। ভোর ৬টার দিকে ইমরান মারুফের ঘরে প্রবেশ করে। রিনা আর ইমরান মিলে শক্ত হাতুড়ি দিয়ে মারুফের মাথায় আঘাত করে। এতে মারুফ সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি ও রক্তমাখা জামা পাশের ডোবায় ফেলে দেয় তারা।
সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে স্ত্রী রিনা আক্তার ওরফে উর্মিসহ (২৭) নয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশ জানায়, জিঞ্জাসাবাদে স্ত্রী উর্মি স্বীকার করেন পরকীয়া প্রেমিককে নিয়ে স্বামী মারুফকে হত্যা করেছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ডিবি দক্ষিণের যৌথ অভিযানে শুভাঢ্যা জোড়া পুকুরপাড় এলাকা থেকে ঘাতক ইমরানকে (২৬) গ্রেপ্তার করে। হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত মারুফের বাবা মাসুম কাজী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করবেন বলে জানা গেছে।
