জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক

পণ্য বিক্রির সাফল্যে ওয়ালটনের নিট মুনাফা বেড়েছে ১৪৭%

আপডেট : ২৬ মে ২০২১, ১২:৫৩ এএম

পণ্য বিক্রিতে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে দেশীয় ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। মহামারী করোনার মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬১ শতাংশের বেশি। পণ্য বিক্রিতে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানিতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় ওয়ালটন হাই-টেকের নিট মুনাফা বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিট মুনাফায় শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক। চলতি ২০২০-২১ হিসাব বছরে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি ওয়ালটন হাই-টেকের নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১ শতাংশ।

ওয়ালটন হাই-টেকের চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রি ও রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৮ কোটি টাকা। ওয়ালটনের আয়ের বড় অংশ আসে রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার বিক্রি থেকে। চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এ দুই পণ্য বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর টিভি, ইলেকট্রনিকস অ্যাপ্লায়েন্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সে প্রবৃদ্ধি ৫০ শতাংশ। রেফ্রিজারেটর ও এয়াল কন্ডিশনার বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৩৭ কোটি টাকা।

উৎপাদন ব্যয় শেষে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে মোট আয় হয়েছে ৬০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৭৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। প্রশাসনিক, বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয় শেষে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে ওয়ালটন হাই-টেকের পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯২ শতাংশ বেশি। এ সময় সুদজনিত ব্যয় হয়েছে ২২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর অপরিচালন আয় হয়েছে ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় কর্মীর হিস্যা বাবদ ২১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বাদ দেওয়ার পর করপূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ৪৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৭০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর ওয়ালটন হাই-টেকের নিট মুনাফা হয়েছে ৩৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১৫৫ কোটি টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে ১৪৭ শতাংশর বেশি। চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে ওয়ালটন হাই-টেকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৭৯ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা।

চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিভি, কম্প্রেসার, ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করে ওয়ালটন। এ সময় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করেছে বলে কোম্পানিটির কর্মকর্তারা জানান।

বিক্রিতে ভালো প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আবুল বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যেও স্থানীয় বাজারে ওয়ালটনের একচেটিয়া রাজত্ব বজায় রয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান লকডাউনের মধ্যেও ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এসব কারণেই ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তিনি জানান, আমরা পণ্য রপ্তানি বেগবান করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে শাখা অফিস খুলেছি। ইলেকট্রনিকস পণ্যে বিশে^র সেরা পাঁচ কোম্পানিতে স্থান পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

তৃতীয় প্রান্তিকের বড় সাফল্যের ওপর ভর করে চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পণ্য বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ শতাংশ। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে পণ্য বিক্রি থেকে কোম্পানিটি আয় করেছে ৪ হাজার ২৯১ কোটি টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। এ সময় উৎপাদন ব্যয় শেষে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা, যা আগের হিসাব বছরের নয় মাসে ছিল ১ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। এ সময় প্রশাসনিক, বিক্রয়, বিতরণ ও সুদবাবদ ব্যয় ও মুনাফায় কর্মীর হিস্যা রাখার পর করপূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৬৩ কোটি টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ২৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত