করোনা মহামারী থেকে মুক্তির প্রার্থনার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ এই তিন ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি বিশ্বের সব স্থানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে গতবারের মতো এবারও বুদ্ধপূর্ণিমায় কোনো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান ছিল না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা, র্যালি, মোমবাতি প্রজ¦ালনের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। সকালে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সম্মিলিত প্রতীকী শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসবের উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বৌদ্ধ ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি উত্তম কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার, বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহার, উত্তরাতে বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহারে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকালে পূজা-অর্চনা ও মহামারী থেকে প্রার্থনার আয়োজনে দিনটি পালিত হয়। বিকেলে মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কভিড পরিস্থিতিতে আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। সংক্ষিপ্ত পরিসরে এবার বুদ্ধপূর্ণিমা পালিত হয়েছে।’
